
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাজেদুল ইসলাম বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, দাপ্তরিক কার্যক্রমে বিলম্ব সৃষ্টি এবং চাল সংগ্রহে দেদার অর্থ 'বাণিজ্য ও ফের মন্ত্রণালয়ে তদবির ১হাজার ৪৫টন চাল বরাদ্দে লাখ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন মিলারের এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওসিএলএসডি মাজেদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের কার্যালয়ে গত মঙ্গলবার ২৭সেপ্টেম্বর থেকে ৩০সেপ্টেম্বর গিয়ে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের কক্ষটি তালাবদ্ধ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি বিশেষ কাজে ঢাকায় আছি। তবে বুধবার (২৯সেপ্টেম্বর) দুপুরে অফিস করে আবারো ঢাকায় এসেছি। স্থানীয় কয়েকজন মিলা জানান, গত রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ওসিএলএসডি খাদ্যগুদামে অনুপস্থিত। শুনেছি গত বুধবার দুপুরে অফিসে এসে আনুমানিক বিকেল ৫টায় অফিস থেকে বেরিয়ে যান। তারা আরো জানায়, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম চলতি বছর প্রভাবশালী কয়েকজন মিলারের কাছ থেকে খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করেন এব অধিকাংশ মিলার খাদ্যগুদামে চাল সংগ্রহ অভিযান থেকে বঞ্চিত। ফলে মিলাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্ধ। এরই কারণে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জয়মনিরহাট খাদ্যগুদাম থেকে বদলির জন্য ঢাকায় বসে তদবির করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন মিলার মনে করেন, কুড়িগ্রামের সবচেয়ে বড় খাদ্যগুদাম জয়মনিরহাট এবং রয়েছে শতাধিক সংখ্যক মিলার। খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) পদটি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ যেমন ভিজিডি, ভিজিএফ, ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং সাধারণ রেশনিংয়ের জন্য ডিলার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বরাদ্দকৃত চাল বা গম বিতরণ করা।
অভিযোগকারীদের দাবি, জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মাজেদুল ইসলাম অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য বান্ধব বেষ্টনী কর্মসূচিতে প্রভাব পড়ছে। অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে খাদ্যগুদামের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি খাদ্যগুদামে কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা, মাপজোক সংক্রান্ত মিলারের চাল যাচাই এবং বিল অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় এসব কাজ আটকে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
বিধিমালা কী বলছে, সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা প্রত্যাশিত। তবে কোনো কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দিনে অফিসে অনুপস্থিত থাকলে তার পেছনে সরকারি দায়িত্ব, দাপ্তরিক সফর, অনুমোদিত ছুটি বা অন্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজনের দাবি মিলারদের।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হামিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত না।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের (প্রশাসন-২ অধিশাখা (অতিরিক্ত) যুগ্মসচিব মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি ও অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।