কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে মাছ শিকারিদের দেওয়া অবৈধ বাঁশের বেড়া ও জালের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়া প্রায় ৬০০ বিঘা জমির আমন ধান রক্ষা পেয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পদ্মবিল এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথে থাকা এসব প্রতিবন্ধকতা উচ্ছেদ করায় দ্রুত পানি নেমে যায় ধানখেত থেকে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল কোমরপুরের কাটা খালে অভিযান চালিয়ে বাঁশের বেড়া ও জাল অপসারণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবি ও সোমবারের বৃষ্টিতে পদ্মবিলসহ আশপাশের বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। উপজেলার সাতবাড়িয়া, কড়িয়াখালী, বেগমপুর ও জাহানপুর বিলের পানি পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থল কোমরপুরের কাটা খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হরিহর নদে গিয়ে পড়ে। কিন্তু ওই খালে কতিপয় অসাধু মৎস্য শিকারি বাঁশের বেড়া ও জাল দিয়ে মাছ ধরার ব্যবস্থা করায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে পদ্মবিলসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ৬০০ বিঘা জমির আমন ধান পানিতে তলিয়ে যায়। পরে কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নির্দেশনায় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে বাঁশের বেড়া ও জাল অপসারণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের আটটি স্থান থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, টানা বৃষ্টির পানিতে তাঁদেরসহ আশপাশের কৃষকদের জমির আমন ধান পানিতে ডুবে গিয়েছিল। পানি নিষ্কাশনের পথের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করায় দ্রুত পানি নেমে গেছে। এতে বড় ধরনের ফসলহানি থেকে কৃষকরা রক্ষা পেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শুভংকর মোড়ল বলেন, দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় বর্তমানে আমন ধানের আর তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদ্মবিল ও মর্শিনা বিলের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলে দেওয়া বাঁশের বেড়া ও জাল অপসারণ করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ স্বাভাবিক হওয়ায় তলিয়ে যাওয়া প্রায় ৬০০ বিঘা জমির আমন ধান রক্ষা পেয়েছে। একই অভিযানে আটটি স্থান থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটার অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে।