রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ করোনাভাইরাস যখন দেশে প্রকট আকার ধারণ করেছিল তখন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংকের চাকুরী ছেড়ে দেন গোদাগাড়ী উপজেলার ধামিলা গ্রামের সুলতানুল আরিফিন।
একদিকে সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন। ৮ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির উন্নতমানের আমের গাছের লাগিয়ে আম বাগান করেছেন। এর আগে তিনি পেয়ারা বাগানও করেছিলেন। দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক সাহসী পুরুষ ধামিলা গ্রামের উদ্যোক্তা
সুলতানুল আরিফিন।
তিনি স্বপ্নে বিভর ছিলেন নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তায়। পরনির্ভরশীল না হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মুরগির হাঁস পালন শুরু করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছেন তিনি। তার এই প্রচেষ্টা দেখে বাড়তি আয়ের আশায় আম বাগান করার জন্য। আর ওই বাগানে সবুজে ঘেরা ফাঁকা জায়গায় হাঁস মুরগী পালন করছেন এতে করে তিনি বাড়ি হিসেবে ডিম, মাংশ পাচ্ছেন। তাকে দেখে এলাকার অনেকেই আমবাগানে মুরগী পালনে আগ্রাহী হচ্ছেন । তার আমবাগানে মুরগী ও মুরগী মিলে ২২০ টি রয়েছে। এ ছাড়া আম বাগানের ভিতরে পতিত জায়গায় ৬ টি গরু ও ভেড়া-২০ টি পালন করছেন।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, আম বাগানে হাঁস-মুরগি পালন একটি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, যা কৃষকদের দ্রুত স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। মুরগি পালনে বাড়তি খাবার দিতে হয় না। বাগানের কচি ঘাস, পোকামাকড় খেয়ে জীবণ ধারন করে থাকে। তাকে দেখে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন।
দেশি মুরগি বা কদরনাথ এবং কর্মক্ষম মুরগি ও হাঁসের জাত বেছে নিয়ে পালন করলে বাগানে চড়ে খাবার সংগ্রহ করতে পটু। আম গাছের শীতল ছায়া হাঁস-মুরগির জন্য আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, আম বাগানে হাঁস-মুরগি পালনের অনেক সুবিধা রয়েছে হাঁস ও মুরগি বাগানের ক্ষতিকর পোকা, লার্ভা, ও মাজরা পোকা খেয়ে ফেলে, ফলে বাগানে কীটনাশকের খরচ কমে যায়। প্রকৃতিক সার হিসেবে হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা আম গাছের জন্য চমৎকার জৈব সার হিসেবে কাজ করে, যা মাটির উর্বরতা ও গুণাগুণ বৃদ্ধি করে।
হাঁস মুরগি বাগানের ঘাস ও আগাছা খুঁটে খায়, যা বাগান পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
বাগান মালিক সুলতানুল আরিফিন বলেন, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যই বড় ঝঁকি নিয়ে সোনার হরিন ব্যাংকের চাকুরী আট বিঘা জমিতে আম বাগান করেছি। এর সাথে বাড়তি আয়ের জন্য বাগানের ভিতরে দেশী মুরগির খামার করছি। বাগান থেকে তারা প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় ও ঘাস খেলেও পরিপূরক হিসেবে সকাল-সন্ধ্যায় কিছু সুষম খাবার দিতে থাকি। আম উৎপাদনের পাশাপাশি ডিম ও মাংস বিক্রি করে সারা বছর বাড়তি আয় করা যাচ্ছে।
চর আষাড়িয়াদহ কাঁনাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমবাগানে দেশি মুরগি পালন একটি লাভজনক সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ। বাগানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে মুরগি পালন করলে আমের পাশাপাশি বাড়তি আয় করা যায়। দেশি মুরগির মাংস ও ডিম উন্নতমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ভালো উৎস হওয়ায় এর পুষ্টিগুণ ও বাজার চাহিদা বেশি। পাশাপাশি মুরগির বিষ্ঠা জৈবসার হিসেবে আমগাছে ব্যবহার করে মাটির উর্বরতা বাড়ানো যায়। সঠিক পরিচর্যা ও টিকাদানের মাধ্যমে আমবাগানে দেশি মুরগি পালন কৃষকের আয় ও পুষ্টি—দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।