রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার শিক্ষা খাতে এআই এখন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে নির্ভরযোগ্য শিক্ষক মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিতে ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং বেনাপোলে বিদেশি ম্যাগজিন ও গু-লিসহ যুবক আটক

শীত আসার আগেই মাঠে আগাম সবজি চাষ।তদব দাম কমতে শুরু করেছে। লাভের আশায় রাজশাহীর কৃষক

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫০ Time View

রাজশাহী মোঃ হায়দার আলীঃ সকাল-সন্ধ্যার কুয়াশায় বরেন্দ্র অঞ্চলে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। বরেন্দ্রর মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে সবুজ সবজির সমারোহ। সবজির বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে যেন হাসির ঝলক।

শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে তুলতে শুরু করেছেন তারা। মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে চাষিদের। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

শীতের সবজির স্বাভাবিক মৌসুম শুরু হতে এখনো প্রায় দুই মাস বাকি। এরই মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, ভিন্ডি, করলা, টমেটোসহ নানা সবজির আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

মৌসুমের শুরুতে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকি নিচ্ছেন তাঁরা। তবে বাড়তি লাভের সম্ভাবনার পাশাপাশি অতিবৃষ্টি, রোগবালাই, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারদর কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে জেলার ৯ উপজেলায় ৫ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে ৩৪ রকমের শাকসবজি। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে ৩০ রকমের শাকসবজি চাষ হয় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ করেছেন কৃষকরা। শীতের আগাম এসব সবজির মধ্যে বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শিম, টমেটো, মূলা, পটল, করলা, ঝিঙ্গা ও বরবটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া পালংশাক, পুইশাক, লালশাক এবং ধনিয়াপাতাও রয়েছে এ তালিকায়।

সূত্র জানায়, জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে বেগুন। মোট ৯০৮ হেক্টর জমিতে এ সবজি আবাদ করেছেন চাষিরা। আর ফুলকপি ৩৮৭ হেক্টর, বাঁধাকপি ৩২৩ হেক্টর, শিম ২৪১ হেক্টর, মূলা ৪৩৫ হেক্টর ও টমেটো চাষ হয়েছে ৬৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়া লালশাক ৫৩৮ হেক্টর ও পুইশাক ৩০২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। গত ২০২২-২৩ মৌসুমেও সর্বোচ্চ ৬৬৯ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়। ওই বছর ফুলকপি ২৭৫ হেক্টর, বাঁধাকপি ২৩৯ হেক্টর ও মূলা চাষ হয় ৩২৮ হেক্টর জমিতে।

গোদাগাড়ী উপজেলার শিবসাগর এলাকার আব্দুল কুদ্দুস বলেন তিন বিঘা জমিতে বেগুন, লাউ কপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছি। কয়েক দিন পরে উঠবে এসব সবজি। কিছু কিছু সবজি উঠছে ভাল ফলন পাচ্ছি।

মহিশালবাড়ী এলাকার কৃষক আব্দুল হাই বলেন, ১ জমিতে টমেটো ও ১০ কাঠা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। বেগুন ও মরিচগাছ খুব ভালই হয়েছে। ৬/৮ কেজি বেগুন উঠছে আশা করি বাম্পার ফলন হবে। আর মরিচ গাছে ভালই ফুল ধরেছে।

পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের আশগ্রামের কৃষক মোশাররফ হোসেন এবার ৩২ বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন। গত মৌসুমে আগাম সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবার আবাদ বাড়িয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ বিঘা জমির কপি বিক্রি করেছেন। তাঁর হিসাবে, উৎপাদন, পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণের খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে আশগ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির পরিচর্যায় ব্যস্ত মোশাররফ। গাছের গোড়ায় মাটি দেওয়া, সার প্রয়োগ ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন তিনি।

মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে আগাম জাতের কপি চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ৬ হাজার পিস কপি রোপণ করেছেন। এতে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে আগাম সবজি চাষে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি বিঘায় প্রায় ২ হাজার কপি নষ্ট হয়। তারপরও সময়মতো বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। গত বছর ভালো লাভ হয়েছিল। তাই এবার আবাদ বাড়িয়েছি।’

মোশাররফ জানান, চলতি মৌসুমে তিন বিঘা ফুলকপি এবং সাড়ে চার বিঘা বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন। প্রতি পিস কপি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো সময় সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছেন। তাঁর আরও প্রায় ২৫ বিঘা জমির কপি আগামী কয়েক দফায় বাজারজাত করার উপযোগী হবে। বাজারদর ভালো থাকলে এবারও উল্লেখযোগ্য লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম সবজির মূল সুবিধা হচ্ছে—স্বাভাবিক মৌসুমের আগে বাজারে ওঠায় তখন প্রতিযোগী সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে একই সবজি মৌসুমের তুলনায় বেশি দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। তবে এ সুবিধা ধরে রাখতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। কয়েক দিন দেরি হলেও বাজারে একসঙ্গে বেশি সবজি উঠলে দাম দ্রুত কমে যেতে পারে।

পবা উপজেলার হরিপুর, হরিয়ান, দামকুড়া, পারিলা, বড়গাছী, নওহাটা ও পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এবার আগাম সবজির আবাদ হয়েছে। এসব এলাকায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, মুলা, গাজর, বেগুন, করলা, কাকরোল, লাউ, লালশাক ও ধনেপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।

নওহাটা পৌরসভার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান এবার দেড় বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে সবজি বাজারে তুলতে পারব বলে আশা করছি। বাজারদর ভালো থাকলে আগাম চাষে লাভও ভালো হবে।’

পবা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, ইতোমধ্যে ওই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে আগাম জাতের সবজি চাষ হচ্ছে।

পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান বলেন, বাজারের চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় এবং সম্ভাব্য বিক্রিমূল্য বিবেচনা করে কৃষকেরা ফসল নির্বাচন করছেন। আগাম সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনে জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অনুমোদিত মাত্রা মেনে চলার বিষয়েও কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে।তিনি বলেন, ‘আগে কৃষি ছিল বাঁচার জন্য। এখন কৃষি হচ্ছে ব্যবসার জন্য।’

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগাম সবজি চাষে লাভের সম্ভাবনা বেশি হলেও এটি তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ। বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রার ওঠানামা, রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং বাজারদরের অনিশ্চয়তা—সবকিছুই কৃষকের লাভ-লোকসানের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে আগাম জাত নির্বাচন, সময়মতো পরিচর্যা এবং বাজারজাতকরণের ওপর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

শীতকালীন সবজির স্বাভাবিক মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সময়ের আগেই বাজার ধরতে পারলে কৃষক বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ পান। তাই বাড়তি আয়ের আশায় পবার অনেক কৃষক এখন প্রচলিত মৌসুমের অপেক্ষা না করে আগাম সবজি উৎপাদনে ঝুঁকছেন। তবে এই চাষে লাভ ধরে রাখতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শীতের আগাম সবজি চাষে গতবারের মতো এবারও শীর্ষে রয়েছে পবা উপজেলা। এ বছর উপজেলাটিতে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে শাকসবজি চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে চাষ হয় ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ী উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে শাকসবজি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীতের সময় অনেক বেশি সবজি বাজারে ওঠে। ফলে তুলনামূলক চড়া দাম পাওয়া যায়। যে কারণে আগাম সবজিতে বিশেষ নজর থাকে তাদের। আগাম সবজি বাজারে তুলতে পেরে দামও বেশি পাচ্ছেন চাষিরা। শিম, টমেটো ও বেগুনের দাম তুলনামূলক বেশি। আর ১০/১৫ দিন পর থেকে পুরোদমে সবজি উঠতে শুরু করবে। আলুর দাম বাড়তে থাকলেও ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে বেগুন, লাউ, পটল, কচুর ও শশার দাম। তবে এবার বেশ লাভবান হওয়ার আশাবাদ চাষিদের।

জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল এলাকায় এ মৌসুমে দুলাল ফকির কয়েক প্রকার সবজি ও তিন রকম শাক চাষ করেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বাসায় খাওয়ার জন্য প্রতিবছরই সবজি চাষ করি। তবে এবার সবজির আইটেম বাড়িয়েছি। এবার আমার চাষ করা সবজির তালিকায় রয়েছে- শিম, করলা, লাউ, চাল কুমড়া, বেগুন, টমেটো, কলা, পেপে। তিনি আরও বলেন, সবজি চাষের মতই আবহাওয়া রয়েছে।

গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকার কৃষক আব্দুল মাতিন বলেন, এবার টমেটো,বেগুন, কপি কয়েক ধরনের শাক চাষ করেছি। সবজির ফলন ভালো হয়েছে। ঠিকভাবে পরিচর্যা করার কারণে আমার জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়নি।

গোদাগাড়ী উপজেলার চাষি ও ব্যবসায়ী রজব আলী বলেন, শীতের এসব সবজি অসময়ে বাজারজাত করতে পারায় দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব সবজি আকারে ছোট সাইজের এবং ওজনে কম। একই মন্তব্য করেন সবজি চাষী মোফাজ্জুল হোসেন।

সচেতন কৃষকদের অভিযোগ, যদিও অভিযোগ রয়েছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গভীর নলকূপ থেকে জমিতে পানি নিতে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয় চাষিদের। সময়মত পানি দিতে না পেরে ফসলের ক্ষতির ঘটনাও নতুন নয়। তবে ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার বলেন, ফলন যাতে ভালো হয় সেজন্য কৃষকদের পরামার্শ দেয়া হচ্ছে পতিত বা অব্যবহৃত জায়গায় আমরা পুষ্টি বাগান করে দিচ্ছি। এটা খুব সাড়া ফেলছে। এ প্রকল্পে বিষমুক্ত পিওর সবজি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারজাত করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ন আহম্মেদ বলেন, এ উপজেলাতে সবজি চাষ হয় ভাল হয়েছে। দিনে দিনে এসব সবজি পরিবহণের ব্যবস্থা থাকায় চাষিদের দামে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই। চাষিদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমরা খুশি। তাদের প্রণোদনা ও পরামর্শ যথাযথভাবে দেয়া হয়েছে আমাদের তরফ থেকে। চাষিরা লাভবান হবে বলে আমরা আশাবাদি। আগামীতে সবজি চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin