রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার শিক্ষা খাতে এআই এখন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে নির্ভরযোগ্য শিক্ষক মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিতে ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং বেনাপোলে বিদেশি ম্যাগজিন ও গু-লিসহ যুবক আটক

বিএমডিএ ১০ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে পানি দিচ্ছে

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭৩ Time View

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীতে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে পানি সরবরাহ করে চলেছে। এবার ১০ লাখ ৬২ হাজার কৃষক পরিবারের প্রায় ১০ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর রবি শস্যের জমিতে পানি সরবরাহ করছে প্র্রতিষ্ঠানটি।
নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার তাঁতইর গ্রামের বাাসিন্দা আব্দুল্লাহ (৩৮)বলেন, গভীর নলকুপ, সৌরশক্তি চালিত এলএলপি, খাস মজা খাল পুনঃখনন, খাবার পানি সরবরাহের জন্য ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ, বনায়নসহ বিভিন্ন কাজ কাজ পরিচালনা করছে বিএমডিএ। সৃষ্টি কর্তার দয়া ও তাদের কার্যক্রমে আমার খেয়েপুরে বেঁচে আছি। তবে তাদের উপজেলার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারি কাজ দেখভালে আরেকটু স্বচ্ছতা থাকলে ভালো হয়।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়ার ইউনিয়নের (ইউপি) বাসিন্দা মতিউর রহমান (৬০) বলেন, মৌসুম শুরুর দিকে বিএমডিএ’র পানি ব্যবহার করে কফি চাষ করে ভালো অর্থ উর্পাজন করেছি। আগে আমাদের এলাকায় বছরে একটি ফসল হতো। সেটাও বৃষ্টির পানিতে। একরে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান হতো। তবে যেবার বৃষ্টি সময়মতো হতো না সেবার কোনো ফসলই ঘরে আসতো না। এখন একরে ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যস্ত ধান হয়। কিছু কিছু জমিতে তিনটির বেশি ফসল হয়। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্থাপিত গভীর নলকূপের পানি গম, ধান, শাক-সবজি, আমের বাগানসহ সব ধরনের ফসল উৎপাদনের ব্যবহার হয়। সুপেয় পানিও সরবরাহ করছে এই বিএমডিএ।
জানা গেছে, ১৯৯০ সালের আগেও মরুর মতো ছিল এলাকা। এখন সব পাল্টে সবুজে পরিণত হয়েছে। ১৯৮৫ সালে পূর্বে লাল কংকরময় মাটির উঁচু-নিচু টিলা, ছায়াহীন এক রুক্ষ প্রান্তর ছিল বরেন্দ্র অঞ্চল।
বিএমডিএ জানায়, প্রয়াত ড. এম আসাদ উজ জামানের পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৫টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। গভীর নলকূপ স্থাপন ও পুকুর-খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সৃষ্টি করা, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে মরু প্রক্রিয়া রোধ করা এবং উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা ও যাতায়াতের জন্য ফিডার রোড নির্মাণ করা ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তবে
সময়ের স্বল্পতা, অর্থায়নের প্রতিকুলতাসহ নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়, কিন্তু অল্প সংখ্যক হলেও উল্লেখিত কার্যক্রমসমূহ এ এলাকার মানুষের মনে বিরাট আশার আলো জাগায়। বরেন্দ্র এলাকার বিরানভূমিতে সোনালী ফসলের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে পরবর্তীতে সমগ্র বরেন্দ্র এলাকার উন্নয়নের জন্য ১৯৯২ সালের ১৫ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার সকল (২৫টি) উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে বিএমডিএ নামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়।
বিএমডিএ’র এক হাজার ৮৯৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত। যাদের মধ্যে ১৯৪ জন সহকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী রয়েছে। এসব নিয়ে এগিয়ে চলেছে এক সময়ের বেসরকারিভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি।
বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, বিএমডিএ ১৬ জেলায় ১৫ হাজার ৮২৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে। প্রায় ১৫ হাজার ৮৯৬ কিলোমিটার এলাকায় সেচের পানি বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণ, পাতকূয়া ৬৫০টি; বিদ্যুৎ চালিত এলএলপি ৫৭৬টি ও সোলার এলএলপি ৪৫০টি। এছাড়াও ৪ হাজার ২৫৭ কিলোমিটার খাস-মজা খাল পুনঃখনন, ৭৭৮টি ক্রসড্যাম নির্মাণ, ১৩টি নদীতে পল্টুন স্থাপন, ১৩ হাজার ০৫৭ হেক্টর জলাবদ্ধতা নিরসণ- নওগাঁ জেলার রক্তদহ বিল, টেপাবিল, মনছুর বিল এবং রাজশাহী জেলার ছত্রগাছা বিল, দেবর বিল ইত্যাদি বিলের ৫৭২টি সোলার ডাগওয়েল নির্মাণ এবং এক হাজার ১৪৪ কিলোমিটার সংযোগ রাস্তা নির্মাণ করেছে। তিনি আরো জানান, এক হাজার ৫৯২টি পরিবারের খাবারপানি সরবরাহের জন্য ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ, বনায়নের লক্ষ্যে দুই কোটি ৫৮ লাখ গাছ লাগানো, প্রতি বছর ৬০০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন, এক লাখ ৪৮ হাজার ২১৮ কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে আবাদযোগ্য জমি দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর এবং সেচকৃত জমি ১০ লাখ ৩৬ হাজার হেক্টর (আবাদযোগ্য জমির ৮৯ দশমিক ৩০ শতাংশ)। প্রায় ১০ লাখ ৬২ হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে। গ্রামীণ জনসাধারণের মাঝে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে এক হাজার ৫৯২টি ওভারহেড ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।#

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin