
খলিলুর রহমান খলিল,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রংপুরের মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় একের পর এক অভিযান, জরিমানা ও উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস,কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আবারও শুরু হয় সেই কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আর জরিমানাই কি যথেষ্ট, নাকি অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ?
ভেজাল গুড় উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ যেন থামছেই না। ভেজাল গুড় উৎপাদন কারী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম দিন দিন বেড়েই চলছে, মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, জরিমানা ও সতর্কবার্তা, এসবের পরও একই কার্যক্রম প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, নজরদারি আসলে কতটা কার্যকর?
উপজেলা ময়েনপুর ইউপি শুকুরের হাট পশ্চিম গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামার পাড়ায় ক্ষতিকার, রং, ডায়িচ, সিদুর, পচা মিষ্টা, মিষ্টির শিরা, মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ও বিভিন্ন ক্যামিকেল মিশ্রিত ব্যবহার করে, রাতভর উৎপাদন করেই যাচ্ছে। আসন্ন শরদীয় দূগা পূজা উপলক্ষে আরও বৃহৎ পরিসরে চলছে কর্মযজ্ঞ। এতে নেই প্রশাসনের সঠিক নজরদারী।
জানা যায় , ফুলচৌকি খামার পাড়া এলাকার, মুকুল, হানিফ মিয়া ও পশ্চিম গেনার পাড়া মোরছালিম ইসলাম ছোটন, নালু মিয়া ও মোকলেছার দীর্ঘ দিন থেকে এই ভেজাল গুড় উৎপাদন করে আসছে, সাম্প্রতিক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট,সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামান এর নেতৃত্ব গত মাসে লাগাতার ৪ বার ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা হলেও সেটা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, ভেজাল গুড়ের উৎপাদন কার্যক্রম বহাল রয়েছে।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্হানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান যখন হয়, তখন কিছু সময়ের জন্য তৎপরতা দেখা গেলেও অভিযান শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। এতে অসাধু উৎপাদনকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়ে বরং তারা নতুন কৌশলে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি খাদ্যপণ্য নিয়ে এমন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরেও উৎপাদন কার্যক্রম কীভাবে চলে, এমনি প্রশ্ন উঠেছে। তাই শুধু লোক দেখানো অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, উৎপাদনস্থল পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনকে মাঝে মধ্যে অভিযান দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে ভেজাল গুড় উৎপাদনের মূল উৎস চিহ্নিত করতে হবে। কারা উৎপাদন করছে, কোথায় করছে এবং কীভাবে বাজারজাত করছে,এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয় রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান এর সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে, তিনি জানান ইউএনও’কে জানাচ্ছি, অভিযান অব্যাহত থাকবে।