
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ ও গায়েব শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয় ভিত্তিহীন ও তথ্যগত বিভ্রান্তি বলে দাবি করেছেন উপজেলা প্রশাসন।জানা গেছে,বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় অবৈধ সার বাণিজ্যর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে
প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।সম্প্রতি
এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ৬৭০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় সরেজমিনে সারের বস্তা গণনা করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জব্দকৃত সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।অথচ একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এই অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ ও ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনায় প্রশাসনকে নিরুৎসাহিত করতে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুর্গাপুর উপজেলার কিসমতগণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামে সাইদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানা। অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাড়ির বারান্দা ও ঘরে মজুত থাকা সারের বস্তা গণনা করা হয়। গণনা শেষে ৩২৪ বস্তা ডিএপি, ২৪৬ বস্তা ইউরিয়া ও ১০০ বস্তা টিএসপিসহ মোট ৬৭০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
প্রশাসনের দাবি, অভিযানের সময় সারের পরিমাণ সরেজমিনে গণনা করে নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফলে পরবর্তীতে জব্দকৃত সারের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
জব্দের পর ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সারগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয় বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সার বিক্রি থেকে পাওয়া মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৫০ টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব কোডে ই-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত মাস্টাররোলও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে একইদিন পুঠিয়া উপজেলার কার্তিকপাড়া বাজারে সাইদুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘নিশি কীটনাশক বিপণি’তে অভিযান চালিয়ে আরও ৩৩০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। অর্থাৎ দুর্গাপুরের বাড়ি ও পুঠিয়ার দোকান থেকে একই দিনে মোট এক হাজার বস্তা সার জব্দ করা হয়েছিল বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
তবে দুর্গাপুরের বাড়ি থেকে ‘৩২৫ বস্তা সার গায়েব’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদকে তথ্যগত ভুল ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুঠিয়ার অভিযানে জব্দ করা ৩৩০ বস্তা সারের তথ্য ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
অভিযুক্ত সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম তাঁর লিখিত বক্তব্যে জানান, তাঁর কোনো সার বিক্রয়ের লাইসেন্স ছিল না। বিভিন্ন স্থান থেকে সার এনে নিজ বাড়িতে মজুত করে বিক্রি করতেন তিনি। তাঁর বাড়িতে অভিযানের সময় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সারের বস্তা গণনা করে জব্দ করা হয়েছে বলেও তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছে।
ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে।
উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউএনও উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান, সারের গণনা, কৃষকদের মধ্যে বিতরণ এবং সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই পুরো ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।#