
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড আর শিক্ষকগন হচ্ছে মানুষ গড়ার কারিগর। ৯৭ ভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারী এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বালিকালয়ে পড়া লেখা করে থাকে। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু বেসরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন তেমনভাবে হয় নি। ফলে মেধাবীরা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে চাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেও অন্য চাকুরী তে সুযোগ পাবার পর এ চাকুরী ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার তেমনভাবে উন্নয়ন হচ্ছে না। বিষফোঁড়া নামে পরিচিতি ম্যানেজিং কমিটি ব্যপারে যখন যে সরকার আসে তখন সে সরকার নিজেদের মত করে বিধিবিধান পরিবর্তন করে থাকেন। এভাবে কয়েকদফা পরিবর্তন হলেও বিগত দিনে কোন কাজে আসে নি। বলা হয় প্রতিবছর শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী বরাদ্দ দেয়া হলেও
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকছে না প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা। তবে নিয়োগসহ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা বহাল থাকছে।
১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বিধি মোতাবেক, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মচারী নিয়োগসহ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশকৃত বা প্রত্যয়নকৃত নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রদান করবে।
এর আগে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রবিধানমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছিল।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে পুরোনো সেই নিয়ম আবারও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়ন সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সহিত আলোচনাক্রমে স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকগণের মধ্য হইতে তিন জন ব্যক্তির নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।’
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত সংশোধিত বিধামালায় রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বাতিল করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছিল, গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে প্রবিধান ৬ এর উপপ্রবিধান ১ এ উল্লিখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা সাপেক্ষে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, ক্ষেত্রমত, বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সহিত আলোচনাক্রমে নিম্ন বর্ণিত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে ৩জন ব্যক্তির নাম ও জীবন বৃত্তান্তসম্বলিত প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(ক) সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ কোন কর্মকর্তা অথবা ৫ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা; (খ) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজে কর্মরত কোনো সহযোগি অধ্যাপক বা অধ্যাপক; (গ) সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং (ঘ) এমবিবিএস অথবা প্রকৌশল বা কৃষিসহ যে কোনো কারিগরী বিষয়ে ৪ বৎসর মেয়াদী স্নাতক ডিগ্রিসহ সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ কোন কর্মকর্তা অথবা ৫ম গ্রেডের নিম্নে নহে এইরূপ আগ্রহী অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা।’ সাবেক কেন্দীয় শিক্ষক নেতা মোঃ শাহাদুল হক বলেন, বিষফোঁড়া নামে পরিচিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনে বিভিন্ন সময় বিধিনিষেধ করেছেন। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয় নি। শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বাধ্যকরে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে আসে নি।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সহঃ সেক্রেটারী ও গোগ্রাম আদর্শ বহুমূখী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের এমপি, মন্ত্রীরা উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের নেতা স্কুল কলেজ, মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়োগ দিয়ে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এটা টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে আসে নি। তবে আমার স্কুলের তিন কর্মচারী নিয়োগে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীকে কোন টাকা দেয়া হয় এর জন্য গোগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান আমাকে হুমূ্র্কী প্রদান করেছেন। বার বার ডেকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমি তাদের নিকট যায় নি।
মোঃ হায়দার আলী,
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী