রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব উদযাপন করতে কঠোর উপজেলা প্রশাসন পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার সা-ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সপ্তমী পালিত হয়েছে :ডিআইজি আব্দুল মাবুদ শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রিয়াজ আহমেদ মৃধা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার

জিপিএ-৫ বা বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না- ডিসি সাইফুর রহমান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭২ Time View

আরিফ রব্বানী ময়মনসিংহ।।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে দায়িত্বশীলতা, আত্মসমালোচনা ও কার্যকর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল, জিপিএ-৫ বা বৃত্তি অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার মান নির্ধারণ করা যায় না। শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, বড়দের প্রতি সম্মান, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের সক্ষমতাও মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহ শহরের এডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক থাকলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি অত্যন্ত কম। কোথাও আবার শিক্ষার্থীরা সাধারণ গণিতের শতকরা হার নির্ণয়ের মতো মৌলিক বিষয়ও আয়ত্ত করতে পারছে না। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা নয়, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য আত্মসমালোচনার বিষয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্য শুধু কে উপস্থিত বা অনুপস্থিত তা দেখা নয়, বরং দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করা। কোনো শ্রেণিতে যদি ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী একটি মৌলিক বিষয় বুঝতে না পারে, তাহলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই দুর্বলতা দূর করার লক্ষ্য দিতে হবে। পরে আবার মূল্যায়ন করে অগ্রগতি পরিমাপ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে। উপস্থিতির হার, গণিত বা অন্য কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা—এ ধরনের বিষয় পরিমাপযোগ্য সূচক হিসেবে নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে উন্নতি করতে হবে। একসঙ্গে সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দুর্বলতা চিহ্নিত করে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্বের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে শুধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নয়, একজন নেতা ও রোল মডেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বা শাস্তির মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বরং নিজের কাজের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে। সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নিজেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই একজন শিক্ষার্থী মানসম্পন্ন মানুষ হয়ে ওঠে না। অর্জিত জ্ঞান ও মূল্যবোধ বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরি করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। গত কয়েক দশকে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়বে। তবে সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, পেশাগত নিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে নিজ নিজ বিদ্যালয়ের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং নির্দিষ্ট সময় পর অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার এবং ময়মনসিংহ প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর। মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন। এ সময় তারা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষণ পদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin