
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের আষাড়িয়াদহ, মানিকচক, মধ্যচর চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া, জামাইপাড়া, ৭ নং দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমতোলা গ্রামটি পালিতে তলিয়ে গেছে, ভাঙ্গনও শুরু হয়েছে। পৌরসভার কুঠিপাড়া, মাওলানার গেট ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আলাতুলি দেবীনগর, হড়মা গ্রামে ব্যাপক হারে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মানুষ কোন কিছু সরানোর সুযোগ পাচ্ছে না। প্রতিবছর বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে নদী ভাঙ্গন শুরু হয় এবারও ব্যতিক্রম হয় নি।
উপজেলা ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড নিমতলা গ্রাম প্রায় পানিতে তোলিয়া গেছে এবং কিছু কিছু জায়গা ভেঙে যাচ্ছে।
বানের পানিতে ভাসছে চর: ভিটেমাটি ভেঙে গোদাগাড়ীতে আশ্রয় নিচ্ছে ভিটেমাটি হারা পরিবার গুলো।
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গোদাগাড়ীর চর এলাকাগুলো ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি। প্রায় প্রতিদিনই রেলবাজার, বিদিরপুর, হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ ঘাট দিয়ে বানভাসি মানুষ তাদের টিনের চালা, বাঁশ, খোঁটি, হাঁস মুরগী, গরু ছাগল, জমির ফসল নৌকায় করে নিয়ে আসছে।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, ভিটেমাটি ছেড়ে নিজেদের শেষ সম্বল—টিনের চালা, ঘরের খুঁটি, গবাদিপশু আর সামান্য আসবাবপত্র নৌকায় তুলে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে গোদাগাড়ী মূল ভূখণ্ডে ছুটছেন চরের মানুষ।
যুগে যুগে পদ্মার ভাঙন নিঃস্ব করেছে শত সহস্র মানুষকে। অতীতের সেই দুর্বিষহ স্মৃতি যেন কঠিন বাস্তবতা হয়ে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ভাঙন কবলিত মানুষের ঘরে। ফলে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করার তাগিদ জানাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ ও স্থানীয়রা।
বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎই আগ্রাসী রূপে পদ্মায় স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। এতে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। আগেই আশঙ্কা করেছিল নদী পারের বাসিন্দারা - প্রত্যেক বছরের মতো এবারও গোদাগাড়ী উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিবে তীব্র ভাঙন। সেই শঙ্কা সত্যি করে কিছুদিন ধরে প্রবল স্রোতের কারণে উপজেলার পদ্মাপাড়ের চর আষাড়িয়াদহ, চর বয়ারমারী, চর নওশেরা, হবুপাড়া, জামাইপাড়া, চর দিয়ার মানিকচকসহ আশপাশের এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে ধান, পাট, ভুট্টাসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক পরিবার পানি বন্ধি হয়েছে পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক শ বিঘা জমির ফসল।
চর আষারিয়াদহা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে পদ্মায় তবে গত চার থেকে পাঁচ বছর যাবত প্রচুর পরিমাণ ভাঙন শুরু হয়েছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির সহ বহু স্থাপনা । নদী ভাঙ্গনের ফলে বহু মানুষ তাদের ভিটেমাটি ও সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন আমাদের জমি যায়গা যদি পদ্মায় বিলিন হয়ে যায় তাহলে আমরা যারা কৃষক, শ্রমিক দিনমজুর কোথায় ফসল উৎপাদন করবো,আমরা খাবো কি, কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবো। তাই আমি সরকারের কাছে আকুল আবেদন করে বলছি আমাদের চর অঞ্চলের মানুষকে,জমিনকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করুন এবং দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ যেন শুরু করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন নতুন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের ১নং ও ২ নং ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশী ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সাজানো সংসার চোখের সামনে মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকেই।
ভাঙনের ভয়ে অনেক পরিবার গ্রাম ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গোদাগাড়ীর অভ্যন্তরীণ গ্রামগুলোতে চলে গেছে। সেখানে তারা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা অস্থায়ী আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় দের যুগ ধরে প্রতিবছর বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয় এবারও ব্যাতিক্রম হয় নি। তবুও এই জনপদ অঞলে হয়নি এখনও স্থায়ী বাঁধ।
পদ্মা নদীর ভাঙন একটি গুরুতর সমস্যা যা গোদাগাড়ী চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। ভাঙনের কারণে অনেকে তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ফসলি জমি হারাচ্ছেন মাহানন্দা নদীর পানি কিছুটা বন্যা কমেছে, ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের পাশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
গোদাগাড়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একে এম মোমিনুল হকের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
প্রতিদিনই ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে অনেকেই বাড়িঘর সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার আলাতুলি, চরআষাড়িয়াদহ, পোল্লাডাঙ্গা, নারায়ণপুর, হরমাসহ প্রভূতি এলাকা।
গত শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে একটি ডিঙি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ভেসে যাওয়া ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেশে শনিবার রাত রাত ১১ টার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিএসএফের পক্ষ থেকে ১০ জনকে উদ্ধারের বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।