
হারুন অর রশিদ দোয়ারাবাজার থেকে
চারদিকে বিস্তীর্ণ হাওর। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হাওরপাড়ের শতশত শিক্ষার্থী। একটি মাত্র কলেজের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়েছে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়ই কয়েকটি গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার একমাত্র ভরসা।
কিন্তু এসএসসি পাসের পরই থেমে যায় অনেকের উচ্চশিক্ষার পথ। নিকটবর্তী কোনো কলেজ না থাকায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মাধ্যমিকের পরই ঝরে পড়তে দেখা যায়। তাই মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নুর উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজ শাখায় উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের।
সুরমা ইউনিয়নের কানলার হাওরের পূর্ব পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এসএসসি পাসের পর উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হতে তাদের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের কলেজে যেতে হয়। তবে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর্থিক সংকট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজে পাঠাতে পারেন না।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারভীন সুলতানা বলেন, আমাদের সবারই স্বপ্ন এসএসসির পর কলেজে পড়ার। কিন্তু আশপাশে কোনো কলেজ না থাকায় সেই স্বপ্ন অনেকেরই ভেঙে যায়। বিদ্যালয়ের অনান্য শিক্ষার্থীর একই কথা বিদ্যালয়টি কলেজ শাখায় উন্নীত হলে হাওর পাড়ের শত শত শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার স্বপ্ন জোগাবে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে মুহিবুর রহমান মানিক সোনালী নূর উচ্চ বিদ্যালয়কে দ্রুত কলেজে উন্নীত করা সময়ের দাবি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এসএসসিতে আমার বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করলেও কলেজ শাখা চালু না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টিতে উচ্চমাধ্যমিক চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ভবন রয়েছে। কলেজে উন্নীত করা গেলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহ পেতো।