
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ধর্মীয় শিক্ষা) মো. ফোরকানের বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসা, চেক জালিয়াতি এবং নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকতার পবিত্র পেশাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসা তাঁর এসব অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
শিক্ষকতার আড়ালে ‘মামলা বাণিজ্য’
সংগৃহীত বিভিন্ন আইনি নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, মো. ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে এলাকা জুড়ে চড়া সুদের কারবার চালিয়ে আসছেন। তিনি বিভিন্ন কৌশলে স্থানীয়দের কাছে টাকা ধারের নামে কিংবা সুদের শর্তে খালি বা অসংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়ে রাখতেন। পরবর্তীতে সেই অলিখিত চেকে মনের মতো মোটা অঙ্কের টাকা বসিয়ে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে চেক ডিজঅনার ও মিথ্যা মামলা ঠুকে দিতেন।
দ্রুত বিচার আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও সিআর মামলায় স্থানীয় একাধিক সাধারণ মানুষকে আসামি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার নথিপত্রে দেখা গেছে, ফোরকান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি বলয় বারবার বাদী ও সাক্ষী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছেন। এসব হয়রানিমূলক মামলা লড়তে গিয়ে নলছিটি ও ঝালকাঠি সদরের বহু নিরীহ মানুষ নিয়মিত আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে আজ নিঃস্ব হওয়ার পথে।
চাকরি দেওয়ার নামে চেক জালিয়াতি
সম্প্রতি ৭নং নাচনমহল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া এক অফিশিয়াল প্রত্যয়ন পত্রে শিক্ষকের এই জালিয়াতির মারাত্মক চিত্র ফুটে উঠেছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, নান্নু খান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নগদ ১ লাখ টাকা ও একটি অলিখিত চেক নেন মো. ফোরকান। পরবর্তীতে তিনি ওই চেকে জালিয়াতি করে উল্টো নান্নু খানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের মতে, এই চেক জালিয়াতির মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতারণামূলক।
পরোয়ানা জারি ও শিক্ষকের আত্মগোপন
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রানাপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুর চক্রবর্তী বলেন, "মো. ফোরকান বর্তমানে আমার কাছ থেকে দুই সপ্তাহের মেডিকেল ছুটি নিয়েছেন। আদালতের মাধ্যমে জানতে পেরেছি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তিনি পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক রয়েছেন। ছুটি শেষ হলে বিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে একজন ধর্মীয় শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চেক জালিয়াতিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে মো. ফোরকানের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাঁর এই 'মামলা বাণিজ্য' স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।