
মোঃ নাঈম মল্লিক,
ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির নলছিটিতে সড়ক নির্মানের ফেলে রাখা কাজ সম্পন্নকরণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার নলছিটির মল্লিকপুর এলাকায় সকাল সাড়ে দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় উপস্থিত বক্তারা দীর্ঘদিনের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন,প্রায় পাচ বছর আগে নির্মান কাজ শুরু করে মল্লিকপুর থেকে সূর্যপাশা স্কুল পর্যন্ত সড়ক,শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা সড়ক সহ “গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০২”শীর্ষক প্রকল্পের আটটি রাস্তার কাজ ফেলে রাখা হয়েছে।এতে দুর্ভোগে পরেছেন কয়েক হাজার মানুষ।রাস্তাগুলো খানাখন্দের কারনে এখন মরনফাদে পরিনত হয়েছে।প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় নারী,গর্ভবতী প্রসূতি এবং বৃদ্ধদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।তারা এসব কাজ পুনরুদ্ধারে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেন।সাত দিনের মধ্যে আবার নির্মান কাজ শুরু না করা হলে নলছিটি বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করার হুশিয়ারী দেন তারা।এছাড়াও এসব রাস্তার নির্মান কাজ সম্পন্ন করা না হলে সকল প্রকার ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেয়ারও হুশিয়ারি দেন ভুক্তভোগী এলাকার মানুষেরা।
এসময় তারা আরও উল্লেখ করেন,গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে সূর্যপাশা মোনাইবাড়ি এলাকার আব্দুর রাজ্জাক ফরহাদের ঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গেলেও ভাঙাচোরা রাস্তার কারনে গাড়ি আটকে যায় ফলে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সমাজসেবক নজরুল ইসলাম তালুকদার,ব্যবসায়ী মনির হোসেন,ব্যবসায়ী আ:সালাম,প্রভাষক নাসির উদ্দীন,উপজেলা ইসলামি আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা শাহজালাল হোসাইন জিহাদি,স্থানীয় সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য প্রমূখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ০৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম হোসেন,মোহন তালুকদার,দুলাল হোসেন,ইষান তালুকদার,বাদল হোসেন সহ স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দারা।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
নলছিটি পৌরসভার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০২ এর আওতায় ২০২০-২১ সালে মল্লিকপুর থেকে সূর্যপাশা স্কুল পর্যন্ত প্রায় ১.৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মানে দুইটি প্যাকেজে ১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।নির্মান কাজ দুটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স কন্সট্রাকশন ও খন্দকার ব্রাদার্স।কিন্তু পাচ বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কাজটি সম্পন্ন করেনি।এছাড়াও শংকরপাশা পোলেরহাট থেকে দক্ষিণ গৌড়িপাশা পর্যন্ত ৬০০ মিটার সড়ক নির্মানে ৪৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।এই রাস্তাটি নির্মানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজকে,তারাও কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি পাচ বছরেও।