রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব উদযাপন করতে কঠোর উপজেলা প্রশাসন পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার সা-ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সপ্তমী পালিত হয়েছে :ডিআইজি আব্দুল মাবুদ শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রিয়াজ আহমেদ মৃধা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার

মিঠাপুকুরে জ/রিমানা ও ধ্বং-সযজ্ঞের পরেও চালিয়ে যাচ্ছে গুর উৎপাদন “তবে আড়ালে কী ‘অদৃশ্য শক্তি?‎

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৮ Time View

‎
খলিলুর রহমান খলিল,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
‎রংপুরের মিঠাপুকুরে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় একের পর এক অভিযান, জরিমানা ও উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস,কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘন্টা পরই আবারও শুরু হয় সেই কার্যক্রম। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আর জরিমানাই কি যথেষ্ট, নাকি অবৈধ কারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর আইন প্রয়োগ?
‎
‎উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের শুকুরের হাট এলাকার পশ্চিম গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামারপাড়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক ও চিনি ব্যবহার করে অনুমোদন বিহীন ও অস্বাস্হ্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল গুড় উৎপাদন করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে কয়েকটি কারখানা।
সম্প্রতি এই এলাকায় দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে গেল ৫-৯-২৬ ইং তারিখে মালিক মুকুল মিয়াকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও আর একটি কারখানার ০৩-০৯-২৬ ইং তারিখে মালিক মোরছালিন ইসলাম ছোটনকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, এবং ০৯-০৯- ২৬ ইং তারিখে আলমগীর হোসেন কে ভেজাল গুড়ের জন্য ১,৫০,০০০ টাকা ও গাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, একই সঙ্গে কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এর আগেও আশিক জামানের নেতৃত্ব পশ্চিম গেনার পাড়া এলাকার গুড় উৎপাদন কারী মালিকদেরকে জেল ও জরিমানা দিয়েছিলেন।
‎
‎এর আগেও এই ভেজাল গুড় উৎপাদন কারী কারখানা ও মালিকদেরকে অনেক কয়েকবার অভিযান চালিয়েছেন,মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন  তৎকালীন ইউএনও, ফাতেমা ফাতেমাতুজজোহরা, মামুন-অর-রশীদ, মামুন ভূইয়া, রাকিবুল ইসলাম, বিকাশ চন্দ্র সহ অনেকেই, কিন্তুু বার বার অভিযান ও সর্তকতা করে দেওয়া সত্বেও অদৃশ্য শক্তির কারণে কারখানা গুলোতে নিয়মিত উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
‎
‎স্থানীয় সূত্রের জানা যায়, একই এলাকায় গত সপ্তাহেই দুই দফা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কারখানায় আখের রস ছাড়াই চিনি, পচা মিষ্টির শিরা ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে গুড় তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎অভিযানে কারখানা থেকে পচা মিষ্টির শিরা, টেক্সটাইল ডাই বা কাপড়ের রং, সিদুর, সোডা, রাসায়নিক চুনসহ বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে এসব উপকরণ ও প্রক্রিয়াজাত ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়।
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযান চলাকালে কারখানা বন্ধ, জরিমানা কিংবা উৎপাদনসামগ্রী ধ্বংস করা হলেও এসব কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই স্থানে একই কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়,অভিযানের সুফল কোথায়? প্রশাসনের আইন প্রয়োগ কোথায়?  তাহলে ব্যবসায়ীরা কী আইনের উর্ধ্বে??
‎
‎এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিনের পর দিন একই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়? তাদের প্রশ্ন, একই অপরাধে বারবার জরিমানা করা হচ্ছে, কিন্তু মূল উৎপাদনব্যবস্থাই স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছেনা, তাহলে এটা কী আইনের দূর্বলতা নাকী আমলাদের কারচুপি??
‎
‎অনুসন্ধানে জানাগেছে, উপজেলার শুকুরের হাটে গেনার পাড়া ও ফুলচৌকি খামার পাড়া গ্রামে অবৈধ গুড়ের কারখানা গুলোর, মালিকেরা মিলে সমিতি গঠন করেছেন, সেই সমিতির সভাপতি নালু  মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া। জানাগেছে এই সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক দুজনে মিলে প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তর মেনেজ করেই, চালাচ্ছে মানব দেহে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ব্যবহার করে ভেজাল গুড়ের কারখানা।
‎
‎অভিযান পরিচালনাকারী মিঠাপুকুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশিক জামান জানান, চিনির রস, পচা মিষ্টির শিরা এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে গুড় তৈরি করা হচ্ছিল। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজালবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের দপ্তর কী শুধু আমার দপ্তর না আর দপ্তর আছে?  আমার জায়গা থেকে আমি যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছি।
‎
‎স্থানীয় ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন ‘অব্যাহত অভিযান’ নয়, তারা চান অবৈধ কারখানাগুলোর স্থায়ী সমাধান। কারণ বারবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করার পরও যদি একই কারখানা কিংবা একই এলাকায় আবার উৎপাদন শুরু হয়, তাহলে সেটি শুধু ভেজাল খাদ্যের সমস্যা নয়; বরং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
‎
‎এর আগেও এ ধরনের কারখানায় অভিযান, জরিমানা ও শাস্তির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারপরও যদি উৎপাদন বন্ধ না হয়, তাহলে এই ধারাবাহিকতার পেছনে কারও গাফিলতি,কার শক্তিশালী হাত? না নজরদারির ঘাটতি কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা আছে ?
‎
‎‘অদৃশ্য শক্তি’র কারণে কারখানাগুলো টিকে আছে,এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে শোনা গেলেও এর সত্যতা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, অভিযান ও জরিমানার পরও যদি ভেজাল গুড় উৎপাদন ফিরে আসে, তাহলে শুধু মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
‎
‎সচেতন নাগরিকদের দাবি, ভেজাল গুড় উৎপাদনকারী কারখানাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ, নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি এসব কারখানা বারবার কীভাবে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
‎
‎অভিযানকালে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, রংপুরের প্রতিনিধি, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎এ বিষয়ে রংপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন যখনি আমাদেরকে অবগত করবে, আমরা তাৎণিক ব্যাবস্হা গ্রহন করবো। তবে এই বিষয়টি মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসনের উপর নির্ভর করে।
‎
‎মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ পারভেজ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ভেজাল গুড়ের কারখানা বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, প্রতিনিয়ত অব্যাহত আছে ।

‎
‎

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin