রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর দুর্গোৎসব উদযাপন করতে কঠোর উপজেলা প্রশাসন পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে এসএমজি ও ১০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার সা-ম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সপ্তমী পালিত হয়েছে :ডিআইজি আব্দুল মাবুদ শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রিয়াজ আহমেদ মৃধা বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা মহাসড়কের সার্ফেসিং কাজের উদ্বোধন করলেন জয়নুল আবেদীন এমপি সুজানগরের পদ্মা নদীতে শেষ হলো আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি নৌকা বাইচ উৎসব সুপারি পাড়া কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহ-ত পীরগঞ্জে ‘দুর্গাপূজায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করণীয়’ সভায় অনুপস্থিত ৩ কর্মকর্তাকে শো-কোজের নির্দেশ ‎পাইকগাছায় গলায় ফাঁ-স দিয়ে গৃহবধূ আত্মহ-ত্যা মহেশপুরে ৭০ গ্রাম গাঁ-জাসহ ১ মা-দক কা-রবারি গ্রে-প্তার

গোদাগাড়ীতে আগাম জাতের পারিজা ধানের বাম্পার ফলন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮৬ Time View

রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলী।। মাঠজুড়ে শুধু সবুজ আর সোনালি ধানের ক্ষেত। যে দিকেই দু’চোখ যায় শুধু সবুজের সমারোহ। কিছু জমির আগাম জাতের পরিজা ধান আধুনিক মেশিন দিয়ে কাঁটা মাড়াই চলছে। ফসলের মাঠ যেন সোনালি আর সবুজের চাদরে ঢাকা। মাঠে মাঠে এখন পাঁকা সোনালি আগাম জাতের আউশ ধান স্থানীয় কৃষকদের ভাষায় পারিজা ও আমনের নজরকাড়া দুলনী। ধান কেটে লাগানো হবে টমেটো, বেগুন, কপি, সবজি, ভূট্টা, লাউ, সরিষা,খিরাসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। অতিবৃষ্টি, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে টমেটো, বেগুন, কপির চারা গাছ প্রস্তুত করে রেখেন কৃষক।

মাঠের পর মাঠজুড়ে সোনালি শিষে ভরা ছিল পারিজা ধানের ক্ষেত। সোনালি ধানের শীষের সাথে দুলেছিল কৃষকের স্বপ্ন। সে স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নিয়েছে। খরা বিপর্যয়, বন্যা, অনাবৃষ্টির ধকল কাটিয়ে ঘাম ঝরা ফসল ঘরে তোলার সোনালী স্বপ্ন কৃষকের চোখে মুখে। কোথাও কোথাও দেখা যায় হালকা শীতের সোনামাখা রোদ্র গায়ে মেখে আগাম জাতের পারিজা কাঁটা ও মাড়াইয়ে কৃষকের ব্যস্ততা। পাঁকা ধান মাড়াই করার পর ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা মণ ধরে জমি থেকে ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছে পাইকাররা। ধানের ভাল দাম পেয়ে কৃষকগণ দারুন খুশি। মাঠ ভরা ধান দেখে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য এবার পরিজা ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে কৃষকগণ জানিয়েছেন। কৃষকরা বলছেন, এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ধানের আবাদে অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি শ্রম দিতে হচ্ছে। শঙ্কাও কম ছিলো না। এখন তাদের ধান কাটতে গোলা ও বস্তাজাত করার পালা, বাজারজাত করে দারুণ খুশি। আগাম জাতের পারিজা ধান কেঁটে ওই জমিতে টমাটো, বেগুন, সরিষাসহ শাক সবজি রোপন করবেন। সবুজের ঘেরা আগাম জাতের পারিজা ধানের মাঠ দেখে বারবার ফিরে তাকায় কৃষক, থমকে দাঁড়ায় পথিক। আর কয়েক দিনের মধ্যেই সোনালি ধানে ভরবে কৃষকের মন। রাশি রাশি সোনালি ধানে ভরে উঠবে কৃষকের শূন্য কুঠি ও গোলা। পাশাপাশি কৃষকের মুখে ফুটে উঠবে হাসি।

জানা যায়, এবারে উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ২টি পৌর সভায় ২৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি পরিমান জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে।
এসব এলাকার মাঠগুলোতে চাষকৃত আমন ধানের মধ্যে গুটি স্বর্ণা, লাল স্বর্ণা, সুমন স্বর্ণা, পাইজাম, জিরাসাইল, ব্রি-২৯সহ উচ্চ ফলনশীল অনেক জাতের হাইব্রিড ধানেরও চাষ হয়ে থাকে। এর সাথে গত কয়েক বছর থেকে যোগ হয়েছে সু-ঘ্র্যাণের চিনিআতপ ধানের চাষ।

গোদাগাড়ী উপজেলার আদর্শ কৃষক আলহাজ আব্দুল মাতিন ও আলহাজ শামসুল হক জানান, বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় এ বছর বেশি পরিমান জমিতে আগাম জাতের পারিজা ও আমনের চাষ করেছেন। পারিজা ধান কাটা মাড়াইয়ের মাসখানেক পর আমন কাটা শুরু হবে। ফলে জমি পতিত থাকেনি।
কৃষক আবদুর রশিদ বলেন, দুবিঘা জমির ধান কেটেছি ৪০ মন ধান হয়েছে, চারা হয়েছে। প্রতি হাজার চারা বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকায়। ওই জমিতে টমেটো, কপি ও বেগুন লাগানো হবে। জমি কোন সময় পতিত থাকে না।
গোদাগাড়ী পৌর সভার কৃষক আব্দুল মতিন জানান, প্রাকৃতিক বৃষ্টিতেই এবার ৭ বিঘা জমিতে আগাম জাতের পারিজা ধান চাষ করেছি ধানের বাম্পার ফলন আশা করচ্ছি। পাইকারগণ ধান মাড়ার করার পরপরেই জমি থেকে ১২শ’ ১৩শ’ টাকা মণ দরে ধান কিনে নিয়ে গেছেন। ধানের দাম পাওয়ায় আমি দারুন খুশি। ওই জমিতে টমেটো, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি করার জন্য জমি তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র মতে, উপজেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় জমি রয়েছে ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর। সেচ বহির্ভূত জমি আছে ১ হাজার ৬৬১ হেক্টর, এক ফসলী জমি রয়েছে ৩৪৪ হেক্টর, দুই ফসলী জমি রয়েছে ৪ হাজার ৫৪০ হেক্টর, তিন ফসলী জমি রয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ হেক্টর।
বিএমডিএ সূত্র জানায়, উপজেলায় গভীর নলকূপ সরকারি ৫৩৬টি মালিকানা ১৬টি মোট ৫৫২টি, অগভীর মটর বিদ্যুৎ চালিত ৪১১টি, ডিজেল চালিত ৫০টি এলএলপি (বিদ্যুৎ) ৩ টি, এলএলপি (ডিজেল চালিত) ৩৫০ টি, সরকারী মোট সেচ যন্ত্র ১৩৬৬ টি ও মালিকানা ৮৩০ টি। সব মিলে সেচ যন্ত্র ২১৯৫টি। উপজেলায় আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর, সেচের আওতায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অতনু সরকার জানান, মেশিন দিয়ে আগাম জাতের আউস শুরু হয়েছে, বাম্পার ফলন হচ্ছে। বৃষ্টির করণে কৃষক চারা করতে পারছেন না। প্রতি হাজার চারা ২৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫ শ টাকায় বিক্রি হতো। এতে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে আবহাওয়া হলে সব কৃষক চারা করতে পারবেন। তবে বৃষ্টি বেশী হওয়ায় সেচের চার্জ একেবারে নেই বললে চলে।
বিশেষ করে অধিক ফলেন জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। এবার গোদাগাড়ী উপজেলার কোথাও পোকার আক্রমণ নেই।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহম্মেদ বলেন, আগাম জাতের পারিজা ধান কাঁটা শুরু করেছেন কৃষকগন বাস্পার ফলন হচ্ছে, দামও ভাল পাচ্ছে। ধান কেঁটে ওই জমিতে টমাটো, বেগুন, সরিষাসহ শাক সবজি রোপন করবেন।
চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আমন ধানের আবাদ কৃষকদের আমন চাষে যযাোউদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন সময় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সরকারিভাবে প্রণোদণা দেয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক ফলন যাতে কৃষকরা করতে পারেন এজন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে তারা উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin