
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার থেকে ময়নামতি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি গ্রামীণ সড়ক নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী গোলাম সারোয়ার। ধানখেতের সরু আইলকে ১৫ ফুট চওড়া সড়কে রূপ দেওয়ায় উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে নতুন গতি। এক কিঃমিঃ কোন রাস্তাই ছিল না, নীজ উদ্যােগে কৃষক দের জন্য জমি ক্রয় করে ১৫ ফুট প্রশস্ত করে প্রায় ১ কিঃমিঃ নতুন করে সংযোগ করেন। নামতলা গ্রামের সাংবাদ আবু মুছা জানান দীর্ঘ দিন মানুষের কষ্টের শেষ ছিল না, এই এলাকার মানুষ দের জন্য গোলাম সারোয়ার নজির স্থাপন করলেন নতুন রাস্তা নির্মান করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এক কিলোমিটার অংশে কোনো চলাচলের পথ ছিল না; কৃষিজমির আইল দিয়েই চলতে হতো মানুষকে। শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম সারোয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই অংশে মাটি ভরাট ও ইটের খোয়া ফেলে চলাচল উপযোগী করেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়কটি বিটুমিন ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সড়কের সুবিধা পাচ্ছেন নিমসার, শিকারপুর, আবিদপুর, বারাইলগজারিয়া, লোদন, বিন্দিয়ারচর, নামতলা, বাদিয়াপাড়া, আকাবপুর, জিয়াপুর ও বারিকোটাসহ আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ। আগে বর্ষায় কাদায় এবং শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় দুর্ভোগ পোহাতে হলেও এখন সহজেই কৃষিপণ্য, গবাদিপশু ও জরুরি রোগী বাজার কিংবা হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও হয়েছে অনেক সহজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠের বুক চিরে আঁকাবাঁকা ১৫ ফুট চওড়া সড়কটি এগিয়ে গেছে নিমসার থেকে ময়নামতির দিকে। সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে সুপারি গাছ, যা এর সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে। কৃষকেরা কাজের ফাঁকে এখানে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার পথচারী ও যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে।
ময়নামতি গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান বলেন, “মাত্র আট মাস আগেও এখানে হেঁটে চলাই ছিল দুরূহ। সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গোলাম সারোয়ার নিজের অর্থায়নে কাজ শুরু করেন। এখন গাড়ি চলাচল করছে, খামারিরা সহজেই গরু-ছাগল নিয়ে সাবের বাজারের পশুর হাটে যেতে পারছেন।”
উদ্যোক্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মানুষের কষ্ট দেখেছি। খেতের আইল দিয়ে চলাচলের দুর্ভোগ আমাকে নাড়া দিয়েছে। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ শুরু করেছি। ১৫টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সড়কের পাকা কাজ সম্পন্ন হলে এই জনপদে কৃষি, শিক্ষা ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।