
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
ঐতিহাসিক সলঙ্গা হাটকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সীমানা জটিলতার অবসান এবং মধ্যপাড়া ভরমোহনী মৌজাকে সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবী উঠেছে।এ দাবীতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গতকাল লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয়রা।
আবেদন সূত্রে জানা যায়,সলঙ্গা হাটটি সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সন্নিকটে অবস্থিত এবং এ হাটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে হাটটির একটি অংশ মধ্যপাড়া ভরমোহনী মৌজায় পড়ায় সেটি প্রশাসনিকভাবে রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।ফলে ওই মৌজার বাসিন্দাদের ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা নিতে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরের ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হয়।
স্থানীয়দের দাবী,ভৌগোলিক ও যোগাযোগের দিক থেকেও মৌজাটি সলঙ্গা ইউনিয়নের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত। মৌজাটির দক্ষিণে সলঙ্গা ইউনিয়নের গোজা,পশ্চিমে কুঠিপাড়া,পূর্বে গাঢ়ুদহ নদী এবং উত্তরে ফেউকান্দি এলাকা। তিনদিকে সলঙ্গা ইউনিয়ন এবং একদিকে নদী থাকায় ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের।আবেদনে বলা হয়েছে, সলঙ্গা হাট শুধু ব্যবসাকেন্দ্র নয়,এটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত স্থান।১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের সময় এখানে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে বহু মানুষ হতাহত হন। সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে সলঙ্গা হাট।
স্থানীয়দের ভাষ্য,সলঙ্গা ইউনিয়নের মানুষের প্রধান ও নিকটবর্তী ব্যবসাকেন্দ্র এই সলঙ্গা হাট।অথচ হাটের অংশটি ঘুড়কা ইউনিয়নের আওতায় থাকায় সংশ্লিষ্ট রাজস্বও ঘুড়কা ইউনিয়ন ও রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অধীনে যাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনকারী সলঙ্গা ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল বারীক বলেন,প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারণে মানুষের যাতায়াত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরী।এ সব বিষয় বিবেচনা করে মধ্যপাড়া ভরমোহনী মৌজাকে সলঙ্গা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান তিনি।
এ বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।