
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীসহ প্রচন্ড খরাপ্রবণ বৃহত্তর
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খাঁন। এসময় তিনি মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পানি নিশ্চিত করে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজশাহীর গোদাগাড়ী,চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, নওগাঁর নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট ও পোরশাসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক। এ সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের দায়িত্ব পালনের সমস্যা, বাস্তবতা ও সম্ভাবনার কথা শোনেন তিনি।
মতবিনিময়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জনবল সংকট, সেচযন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন নির্বাহী পরিচালক।
জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিএমডিএর কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া। বরেন্দ্র অঞ্চলের কোনো জমি শুধু পানির অভাবে অনাবাদি পড়ে থাকবে, এটা আমরা চাই না। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের পানি নিশ্চিত করে পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনা এবং উৎপাদন বাড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে সরেজমিন সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানির অপচয় রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান . জাহাঙ্গীর আলম খান।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ব্যবস্থায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে। এর মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং কৃষকরা আরও নির্ভরযোগ্যভাবে সেচ সুবিধা পাবেন।
এদিকে সচেতন মহলের অভিমত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি তার দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে উত্তরের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে।
এদিন মাঠ পরিদর্শন ও মতবিনিময়ে রাজশাহী, গোদাগাড়ী, নাচোল, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পত্নীতলা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট, পোরশা, নওগাঁ রিজিয়ন-২ ও বিভিন্ন জোন অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, মেকানিক, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, অফিস সহায়কসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।#