শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় নিশ্চিতে ময়মনসিংহে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং বেনাপোলে বিদেশি ম্যাগজিন ও গু-লিসহ যুবক আটক গৌরনদীর সরিকলে বিশিষ্ট সমাজ সেবক মান্নার মায়ের ই-ন্তেকাল ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গৌরনদীতে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা প্রদান স্বপ্ন একটাই আধুনিক বাটাজোর উন্নয়ন, সেবা ও জনকল্যাণের প্রত্যয়ে মজিবরের গনসংযোগ জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত ঝালকাঠির তরুণ সংগঠক আরিফুর রহমান ময়মনসিংহ সদরে ১৩১ পূজা মন্ডপে চালের ডিও বিতরণ করলেন এমপি ওয়াহাব আকন্দ ফেসবুকে ভাইরাল দল পা-গল সুন্দরগঞ্জের আবু বকর।। প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার হাল ছাড়েনি ভাঙ্গুড়ায় টিসিবির ১হাজার ২২৮টি কার্ডের টিসিবি পণ্য বিতরণ

তারাগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬০ Time View

খলিলুর রহমান খলিল নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পরকীয়া সংক্রান্ত ঘটনায় আটক নারী ও যুবককে থানা হেফাজতে নেয়ার পর তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। এমনকি পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে থানার ভিতরেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপস রফাদফার জোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১ নম্বর আলমপুর ইউনিয়নের সেরমস্ত বাঙালিপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে এক সন্তানের জননীসহ ধোলাইঘাট এলাকার মোস্তফা নামে এক যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ থানা হেফাজতে হস্তান্তর করে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও আটককৃতদের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য উপজেলায় কর্মরত দৈনিক আজকের জনবাণী ও দৈনিক খোলা বাজার পত্রিকার প্রতিনিধি থানায় যান। এ সময় ‘শাপলা’ নামে এক পুলিশ সদস্য ওসির কক্ষে গিয়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি জানালে ওসি রুহুল আমিন হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে রুম থেকে বের হয়ে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের কোনো কথা না শুনেই উগ্র মেজাজে উচ্চস্বরে ধমকে বলেন, “আপনি এখানে কেন? কেন জিজ্ঞাসা করছেন? চলে যান! তাদেরকে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, আপনারা এখনই বের হয়ে যান।”

হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি এমন রুক্ষ আচরণ একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তথ্য সংগ্রহ করা স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক অধিকার। ওসি স্বাভাবিকভাবে তথ্য প্রদান কিংবা কথা বলতে পারতেন, তা না করে সরাসরি সাংবাদিকদের প্রতি চড়াও হন।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, থানার ভিতরেই একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ রফাদফায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ওসি রুহুল আমিন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং তড়িঘড়ি করে থানা থেকে বের করে দেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদকর্মীদের প্রতি ওসির এমন ‘স্বৈরাচারী’ ও অশোভন আচরণে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
“এ বিষয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি (DIG)-কে অবহিত করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক, তারাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাপ্তাহিক তারার আলো পত্রিকার সম্পাদক খবির উদ্দিন প্রামানিক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তথ্য সংগ্রহ ও জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরাই সাংবাদিকদের মূল কাজ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে একজন সাংবাদিক যেকোনো সময় থানায় যেতেই পারেন। সেখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন সাংবাদিকদের সাথে যে ধরনের অপেশাদার ও অহেতুক খারাপ আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin