
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ রাজশাহী জেলার প্রথম শ্রেণীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ও উপজেলার রাস্তার বেহালদশা শুরু হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। রাস্তা জমে হাটুপরিমান পানি ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন এলাকাবাসী।
গোদাগাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বৃষ্টির পানি জমে বিলে পরিনত হয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা পৌরসভায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।
সামন্য বৃষ্টিতে গোদাগাড়ী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সিএন্ডবি থেকে আচূয়া তালতোলা পর্যন্ত রাস্তার বেহালদশা শুরু হয়েছে। তার পৌরকতৃপক্ষের উদাসীনতা, অদক্ষতার কারণে গত এক সপ্তাহ থেকে রাস্তার উপর ড্রেন পরিষ্কার নামে পচা, মাটি, আর্বাজনা, দুর্গগন্ধযুক্ত অপদ্রব্য ফেলে রেখেছেন এতে জনসাধারণের আরও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ রাস্তা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী ১ আসনের এমপি, জামায়াতের নায়েবী আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এলাকাবাসী প্রসুতি, রোগি, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী জানান কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি।
ভারী বৃষ্টিতে গোদাগাড়ী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের রাস্তার বেহালদশা শুরু হয়, চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গোদাগাড়ীর নুরুজ্জামান বলেন, রাস্তার বেহালদশা ও জনদুর্ভোগ কথা বলে শেষ করা যাবে না। গত ১৫ বছর থেকে এভাবেই আছে কেউ দেখার নাই ডাইংপাড়া থেকে ১০ টাকা রিকশা ভাড়া, ৪০-৫০ টাকা দিতে চেয়েও আসেন না, পা ধরা লাগে। এই রাস্তা কি কোনোদিন ভালো হবে না? আমার বাইরের রিলেটিভরা আসলে বলে,, পৌরসভার রাস্তা দেখলেই বুঝা যাই গোদাগাড়ী কতোটা উন্নত। রাস্তাগুলো ঠিকই ছিল। যখন থেকে বালু ব্যবসা শুরু হয়েছে, ভারি যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে বিশেষ করে বালুর ট্রাক, ট্রাক্টর তখন থেকে রাস্তাগুলোর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে। গোদাগাড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী, সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ: সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তার উপর জমে কাঁদা আর পানি। স্লিপ করে পড়ে যায় পথচারী, ছোটবড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকে।
পৌরসভার এ ওয়ার্ডের সারাংপুর গোরস্থানসহ বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, মসজিদগামী মুসল্লি এবং গোরস্থানে আসা মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল এবং দীর্ঘদিন পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের
জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উপজেলার ৪ নম্বর রিশিকুল ইউনিয়নের হাজিপাড়া গ্রামের সড়কে সামান্যবৃষ্টিতে রাস্তার উপর জমে হাটুপরিমান পানি। রাস্তার পাশে কোন ড্রেন না থাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, চব্বিশনগর থেকে মরমড়িয়া যাওয়ার সড়কের ১০০ ফিট রাস্তায় পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, কৃষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরেছেন। ২০২৩ ইং সাল হতে এ অবস্থা সৃষ্টি হলেও কোন রাজনৈতিক দলের নেতা, এমপি, মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন করেন নি এলাকাবাসীর অভিযোগ।
মাটিকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র একই। ভারী বৃষ্টিতে স্কুল মাঠ ও রাস্তা পানির নীচে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকগন পড়েছে চরম বিপকে। এব্যপারে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান সোহেল রানা একাধিকবার মোবাইল করে পাওয়া যায় নি।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের তুলশিপুর গ্রামের একটি রাস্তার এত খারাপ অবস্থা যে ওই রাস্তায় গত ২ মাস থেকে কোন হালকা ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি মানুষও পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হতে পারে না। তাই প্রতিবাদ হিসেবে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানের চারা রোপন করেছেন।
এ ব্যপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসলাম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভাব হয় নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে কাঁদা জমে যায়। ফলে মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন হালকা ভারী যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করছে।
ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাদা ও পিচ্ছিলতার কারণে পথচারীরা পড়ে গিয়ে আহত হতে পারেন, পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
পৌরসভার প্রকৌশলী ও সচিবের দায়িত্বে থাকা সাওয়ার জাহান মুকুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এ বিষয়ে পৌরসভার ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, এ বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।