শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :-
কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে পদ না পেয়ে নিজের গালে জুতাপেটা ছাত্রদল নেতার বাংলাবাজার পত্রিকার সাংবাদিক জাহাঙ্গীর প্রধানকে প্রা-ণনাশের হু-মকি-আশুলিয়া থানায় জিডি আশুলিয়ায় ডিবি পুলিশ কর্তৃক ৫২ কেজি গাঁজাসহ একজন পেশাদার মাদক কারবারী গ্রে-ফতার একটি গাড়ী ‍উদ্ধার গোপালগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান  সন্তানের হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে প্রিয় শিক্ষক, এআইনির্ভর শিক্ষায় পড়াশোনা হবে সহজ- ড. মো. শাহজামাল সাজু রাজশাহীতে ক্রিকেটারদের চু-রি হওয়া লাগেজ উদ্ধার ৪ জনকে আট-ক করেছে পুলিশ তানোরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা রোধে বাড়তি সতর্কতার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের স্বাধীনতার ৫৪ বছরে নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী পার্বতীপুরে কোকো ক্রীড়া সংসদের বেলাইচণ্ডী ইউনিয়ন কমিটি গঠন

শেবাচিমে জ্বালানি সংকটে জেনারেটর অচল, ব্যাহত অ/স্ত্রোপচার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮২ Time View

কে এম সোহেব জুয়েল ঃ

জেনারেটর আছে কিন্তু সেটি চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল নেই। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে কার্যত অচল হয়ে পরে বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বড় একটি অংশ। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পরছেন ভর্তি রোগীরা। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় জরুরি অস্ত্রোপচারও ব্যাহত হচ্ছে।

সূত্রমতে, দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা ছাড়াও মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন এখানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, ৫৮ বছর ধরে হাসপাতালটির জেনারেটরের জ্বালানি বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালটি পরবর্তীতে সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক হাজার শয্যায় উন্নীত হয়। তবে শয্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়েনি।

চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শুন্য রয়েছে। পুরোনো অবকাঠামোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। হাসপাতালের পুরোনো ভবনে দুটি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও নতুন ভবনে সমস্যা তীব্র। একটি মাত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে সেখানে দিনে-রাতে মিলিয়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না।

বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ হয়ে যায় লিফট। অন্ধকারে পড়ে থাকে ওয়ার্ড, বন্ধ থাকে বৈদ্যুতিক পাখা। এতে রোগীদের পাশাপাশি স্বজনদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী নতুন ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অসুস্থ রোগীদের কষ্ট বেড়ে যায় বহুগুণ।

বরগুনার বামনা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা বৃদ্ধ মেনহাজ ফকির বলেন, আশপাশে ভবন থাকায় ওয়ার্ডে বাতাস চলাচল কম। বিদ্যুৎ না থাকলে প্রচণ্ড গরমে রোগীদের অসহ্য কষ্ট হয়। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থেকে মায়ের চিকিৎসার জন্য আসা শাহানাজ বেগম বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগীকে এক তলা থেকে অন্য তলায় নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পরে।

হাসপাতালের মূল ভবনেই আইসিইউ, সিসিইউ এবং অপারেশন থিয়েটারগুলো অবস্থিত। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন হাজারের বেশি রোগী ভর্তি থাকেন হাসপাতালে। যারমধ্যে প্রায় ২৩শ’ থেকে ২৪শ’ রোগী মূল ভবনে চিকিৎসাধীন থাকেন।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি অস্ত্রোপচার হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে তা কমে ১০ থেকে ১২টিতে নেমে এসেছে। ইউরোলজি বিভাগের অস্ত্রোপচার সপ্তাহে একদিন নির্ধারিত থাকায় বিদ্যুৎ সংকটে সেটি বাতিল হলে রোগীকে পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফটও বন্ধ থাকে। ফলে পাঁচতলা পর্যন্ত রোগী বহন, স্বজনদের চলাচলসহ সব কাজ সিঁড়ি দিয়েই করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেনারেটরের মাধ্যমে আইসিইউ, সিসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারের প্রয়োজনীয় আলো চালু রাখা গেলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হয় না। ফলে প্রচন্ড গরমের মধ্যেই চিকিৎসকদের অস্ত্রোপচারের কাজ করতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চারটি জেনারেটর রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলো চালানো যাচ্ছে না।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম মাহবুব হোসাইন বলেন, নতুন ভবনের জন্য ২৫০ কেভিএ ক্ষমতার একটি নতুন জেনারেটর রয়েছে। তবে তেলের অভাবে সেটি সচল রাখা যাচ্ছে না। মূল ভবনে ২৫০, ১২৫ ও ৬০ কেভিএ ক্ষমতার আরও তিনটি জেনারেটর রয়েছে। সরবরাহ করা তেল দিয়ে একসঙ্গে সবগুলো চালানো সম্ভব হয় না।

গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানান, একটি জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১১০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা শেবাচিম হাসপাতাল। এতো বছরেও জেনারেটরের জ্বালানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া দুঃখজনক।

শেবাচিম হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, নতুন ভবনে আরেকটি বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি জেনারেটরের জন্য তেল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin