
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ মহিউদ্দিন খাঁন রানা
বাবুগঞ্জের এক ব্যক্তিকে ঘিরে অনুসন্ধান টেলিগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন প্রিমিয়াম গ্রুপে শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ভিডিওসহ বিভিন্ন আপত্তিকর কনটেন্ট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির মূলহোতা হিসেবে বাবুগঞ্জের এক ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি অনুসন্ধানী দল।
জানা গেছে, সম্প্রতি টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে একাধিক প্রিমিয়াম গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। এসব গ্রুপে বিভিন্ন ক্যাটাগরির কনটেন্ট দেখানোর কথা বলে মাসিক বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টও প্রচার ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানকারীদের দাবি, গ্রুপগুলোর পরিচালনায় ব্যবহৃত পেমেন্ট নম্বর ও অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কিছু মোবাইল নম্বর ও আর্থিক হিসাব অন্য ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে খোলা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের মাধ্যমে গ্রুপ পরিচালনায় ব্যবহৃত একটি ডিভাইস ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সিমের তথ্যও পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির সঙ্গে তহিদুল ইসলাম তানভীর নামের এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তার ঠিকানা হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলার বায়লাখালী এলাকার একটি বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানকারীরা আরও দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে ব্যবহৃত কয়েকটি সিমের মধ্যে কিছু সিম অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়পত্রে এবং অন্য কয়েকটি ভিন্ন ব্যক্তির পরিচয়পত্রে নিবন্ধিত রয়েছে। এসব সিম কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় শিশুদের সুরক্ষা ও অনলাইন অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানী দলটি জানিয়েছে, অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর ও মোবাইল আর্থিক সেবা অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ এবং অনলাইনে এ ধরনের অপরাধী চক্র কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে, সে বিষয়ে তাদের অনুসন্ধানের বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
নোট: অভিযোগগুলোর সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ভিডিও, ছবি, লিংক, ফোন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।