
তরিকুল ইসলাম তরুন,
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু রিফানুল ইসলাম রিফান হত্যা মামলায় মো. শাকিল (২১) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সাবরিনা নার্গিস এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায়ে মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় শাকিলকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বৈদ্যনাথপুর গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে।
যেভাবে ঘটে নৃশংস হত্যাকাণ্ড
আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি শিশু রিফানুল ইসলাম রিফান নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মেঘনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের নয় দিন পর উপজেলার ওমরাকান্দা ব্রিজের নিচে পানিতে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির আংশিক বস্তাবন্দি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
পরে নিহত শিশুর জ্যেঠা মো. মিলন মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মেঘনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে রহস্য
মামলার তদন্ত করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির হোসেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে শাকিলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
বিচারিক কার্যক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শাকিলকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী।