
রাজশাহী থেকে মোঃ হায়দার আলীঃ ভারত থেকে ধেয়ে আসা ঢলে বন্যার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ব্যাপকহারে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে ৫ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৪ নাম্বার ওর্য়াডের কুঠিপাড়া মহল্লার ইয়াহিয়া মিয়া কুপের প্রায় ১ কিলোমিটার নদী ভাঙ্গনে শতাধিক বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গোদাগাড়ী
উপজেলার দিয়ার মানিকচকের রাস্তাটি রাস্তাসহ দু শতাধিক বিঘা জমি ভাঙ্গনে নদীগর্ভ চলে গেছে। এসব জমাতে ধান, পাট, ভূট্টা, কলা, করলা, পটল, কড়মি, ধইঞ্চা প্রভূতি ফসল ছিল। কোন ফসলই কৃষক ঘরে তুলতে না পেরে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার দেবীনগরে নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হাসান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চর-চাকলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া পাঁচ শিশু হলো—চর চাকলা গ্রামের নিজাউদ্দিনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও সুরাইয়া (৯), একই এলাকার সাইপ্রাস প্রবাসী মাসুদ আলীর দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১) ও আরিবা (৮) এবং শরিফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (১১)।
এলাকার মোঃ বাবুল আকতার বলেন, চাঁপাই নবাবগঞ্জ চর দেবীনগর গ্রামের ৫টি বাচ্চা মেয়ে মরা নদীতে গোসল করতে গিয়ে ডুবে মারা গেছে। ( ইন্না-লিল্লাহে ওয়া ইন্না এলাহি রাজিউন) ।
পুরো গ্রামজুড়ে এক শোকের মাতুম চলছে, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই আজ শুক্রবার নিষ্পাপ পাঁচটি বাচ্চার প্রাণহানি ঘটলো, পরিবারের যারা অভিভাবক আছেন একটু সতর্ক হোন নিজের বাচ্চাগুলোর খোঁজ খবর নিন তারা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে,সতর্কতা অবলম্বন করলে এই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
চাঁপাই নবাবগজ্ঞ জেলার সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাতু মার্কেটের আলিয়া মাদ্রসার সামনে মহানন্দা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনে কয়েক শত বিঘা ফসলী জমি, বাঁশ, আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
চর দেবীনগর হতে নজিপুরের রাস্তা বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শ শ মানুষ হাটু ও মাজা পরিমান পানি দিয়ে উপায়হীনভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। মহানন্দা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গনে কয়েক শত বিঘা ফসলী জমি, বাঁশ, আমবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
গত বছর এসময় পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কোদলকাটি, আলাতুলি, ক্লাবঘাট এলাকা, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর ও সদর উপজেলার নারায়ণপুর, আলাতুলী, শাহাজাহানপুর, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ হাজার ৫শ’ ৫৯ হেক্টর মাসকালাই, রোপা আউশসহ সবজি পানি নিচে ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া মাসকালাইয়ের মধ্যে রয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার ১ হাজার ২৫০ হেক্টর ও সদর উপজেলায় ২১২ হেক্টর। তিনি আরও জানান, দুইটি উপজেলার প্রায় ৫ হাজার ৩১৫ জন কৃষকের মাসকালাই, আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, চিনা ও আখ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। নীতি-বিধানের তোয়াক্কা না করেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করে পানি সরিয়ে নিচ্ছে। গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ যাবৎ দুটি চুক্তি হলেও বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি। চলমান ৩০ সাল চুক্তি বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। আগের চুক্তিতে যতটুকু নিশ্চয়তা ছিল, এ চুক্তিতে তাও নেই। ফলে পানিবঞ্চনা আরো বেড়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বক্তব্য খোলাখোলি। শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ এত কমে আসে যে, তা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রয়োজনই মেটে না, বাংলাদেশকে আমরা পানি দেবো কিভাবে? আর বর্ষা মৌসুমে মরণ বাঁধ ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে মারছে ভারত। প্রতিবছর বন্যার সময় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন শুরু হয়। এবার শুরু হয়েছে।
মোঃ হায়দার আলী
রাজশাহী।