
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুরে এক মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক নাবালক শিক্ষার্থীকে (১২) ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতের এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা রুহুল আমিন।অভিযুক্ত মো. রেদোয়ান মিঠাপুকুর থানার ৭নং লতিবপুর ইউনিয়নের ‘তনকা দারুল নাজাত মডেল মাদ্রাসা’র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার আবাসিক ভবনে থেকে পড়াশোনা করত। ঘটনার দিন (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শিক্ষক রেদোয়ান পরীক্ষার খাতা কাটার কথা বলে ওই ছাত্রকে আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে ডেকে নেন। কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওই শিক্ষক ছাত্রের পায়জামা খুলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।এ সময় ওই শিক্ষার্থীর চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে মাদ্রাসার অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থী সাঞ্জাদ মিয়া, মাহমুদ আলী, রিয়াদ মিয়া ও জাকিরুল ইসলাম বাবু দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ঘরের দরজা ও জানালার ফাঁকা অংশ দিয়ে দেখতে পান, অভিযুক্ত শিক্ষক রেদোয়ান উলঙ্গ অবস্থায় বিছানা থেকে উঠে নিজের পায়জামা পরছেন।এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় এলাকা ও ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রেদোয়ানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি আমি জেনেছি। দুপুর থেকে রংপুরের ডিআইজি স্যারের রুমে মিটিংয়ে ছিলাম। তবে ঘটনার সত্যতা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।