
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের (ইউপি) চৌপুকুরিয়া থেকে খেসবা গ্রাম পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।নির্মাণ কাজে
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।স্থানীয়রা বলছে, এই রাস্তা নির্মাণ হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।এতে সহজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা।অথচ কিছুদিন ভাঙাচোরা এই রাস্তায় চলাচল করা ছিল স্থানীয়দের জন্য নিত্য ভোগান্তি।বৃষ্টির দিনে ভাঙাচোরা স্থানে পানি কাঁদা জমায় হেঁটে যাওয় ছিলো দুর্বিষহ। গাড়ি চলাচল করা ছিল চরম ঝুঁকিপুর্ণ অনেকে বাধ্য হয়ে পাঁযে হেটে যেতো।তবে রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় অবশেষে সেই দুর্দিন কাটিয়ে এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।রাস্তার নির্মাণ কাজ শেষ হলে, এই যেনো নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে। এলাকাবাসীর জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই রাস্তা এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য।কিন্তু একটি গোষ্ঠী নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ ও ঠিকাদারের কাছে থেকে আর্থিক সুবিধা না পেয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অপপ্রচার করে আসছে।
স্থানীয়রা বলছে, প্রায় ২২শ মিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণে নির্ধারিত মানের ইটের খোয়া, পাথর ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।তবে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু ইট ও খোয়ার রং ঝলসে গেছে এতে নির্মাণাধীন রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।কিন্ত্ত তার পরেও একটি গোষ্ঠী রাস্তার নির্মাণ কাজ বিলম্ব করতে নানা অপপ্রচার করছে।ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, বিটুমিন, পাথর, রড ইত্যাদি নির্মান সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি,মেশিনের ভাড়া ও শ্রমিকের মুজুরি বৃদ্ধির কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই চরম বিপাকে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, রাস্তার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭২১ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বর্তমানে রাস্তার নির্মাণকাজ চলছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণ কাজের শুরুতে ব্যবহৃত পাথরের আকার নিয়ে অনেকে আপত্তি করলে এলজিইডি প্রকৌশলীর নির্দেশে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাথর ভেঙে ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, প্রথমে পাথর বড় সাইজ ছিলো সত্যি, তবে ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে বলার পর নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। তারা আরো বলেন, ইটের খোয়া, পাথর ও বালুর গুণগত মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করায় অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তায় ভাঙন, গর্ত ও ক্ষয় দেখা দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।
এবিষয়ে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান বলেন, রাস্তার নির্মাণ কাজ এখানো শেষ হয়নি, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধ করা হয়নি, এমনকি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ এখানো রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন ও রাস্তার মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেননি, তাহলে এখানোই রাস্তার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যৌক্তিক, কিছু মানুষ অবৈধ সুবিধা না পেয়ে এমন অপপ্রচার করছে।
এ বিষয়ে নাচোল উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাদেকুল ইসলাম বলেন, যেসব বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বড় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে এ ধরনের বড় পাথর আমদানি হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই,কিছু বড় পাথর ছিলো সেগুলো ভেঙে ছোট করে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকতাগণ কাজের মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সন্তোষ প্রকাশ করলেই কেবলমাত্র বিল পরিশোধ করা হবে,কাজেই নির্মাণ কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। #