
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
বর্তমান সফল সরকারের সময়োচিত ও কৃষিবান্ধব পদক্ষেপের ফলে সারাদেশে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহের ন্যায় কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জন হওয়ায় সরকারের সংগ্রহ অভিযানে সাফল্য আর ন্যায্যমূল্য পেয়ে সন্তোষ ও সাবলম্বী এই উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ও অটোরাইস মিল স্বত্বাধিকারীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে নির্ধারিত সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূর্ণ হয়েছে। কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থার কারণে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিতে এসেছে স্বচ্ছতা। সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আধুনিক মেকানিক্যাল ড্রায়ার, স্বয়ংক্রিয় ওজনযন্ত্র এবং গুদামগুলোর মানোন্নয়ন করায় সংগ্রহ অভিযান সফল এবং খাদ্যবান্ধব ভবিষ্যৎ যে কোনো খাদ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দেশকে শতভাগ সুরক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলেছে সক্ষম।
অপরদিকে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামে সরকারের বরাদ্দকৃত বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিজিটালিজ পদ্ধতি ও লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন এবং সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে কৃষকের অ্যাকাউন্টে ধানের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে অনুমোদিত অটোরাইস মিলারদের কাছ থেকে মানসম্মত চাল সংগ্রহে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্টে চালের মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক একরামুল হক, রফিকুল ইসলাম, আমিনুল হক, জব্বার আলীসহ অনেকে জানান, চলতি বোরো মৌসুমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করে এবং কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরাসরি গুদামে ধান দিতে পেরেছেন। বাজার মূল্যের চেয়ে সরকার নির্ধারিত দর লাভজনক হওয়ায় তারা তাদের কষ্টের ফসলের প্রকৃত মূল্য হাতে পেয়েছেন।
মেসার্স মা অটো ও রাফি অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ জাবেদ আলী মন্ডল, সুমন অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ খাদেমুল ইসলাম সিঙ্গাপুরী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার তুলনায় বর্তমান সংগ্রহ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছ। কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর দাপট বা জটিলতা ছাড়াই সরাসরি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে পেরে তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।
মেসার্স দিনা অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ আব্দুল হাকিম, দিপু অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের বর্তমান স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত সংগ্রহ নীতির কারণে খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করা আগের চেয়ে অনেক সহজ ও লাভজনক হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা অপ্রয়োজনীয় ঝক্কি-ঝামেলা না থাকায় আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মত চাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছি। সরকারি এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের ব্যবসায়; খাদ্য গুদামে চাল দিয়ে এবার আমরা লাভের মুখ দেখেছি।
জয়মনিরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করার অংশ হিসেবে আমরা সংগ্রহ অভিযান শুরু থেকে স্থানীয় কৃষক ও মিল মালিকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হামিদুল ইসলাম জানান, মানসম্মত ধান ও চাল সংগ্রহ নিশ্চিত করতে গুদাম পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং করা হয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল আদ্রতামাপক যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে সঠিক মানের শস্য গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষক যেন কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সরকারের এ খাদ্যবান্ধব সুবিধার সুফল পান, সে বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই তৎপর ছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক চাষীদের আর্থিক নিরাপত্তা দেয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। খাদ্যগুদামের এই সফল সংগ্রহ অভিযান স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করবে।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, এ জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়েছে এবং ডিজিটাল ধান সংগ্রহ অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ নিশ্চিতের পাশাপাশি
মানসম্মত চাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতার কারণেই আমরা শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছি।