
আজিজুল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি:
ভারতের কলকাতায় 'শিখা ইন' নামের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। মরদেহগুলো বেনাপোলে পৌঁছালে স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের কান্নায় পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
নিহতরা হলেন—কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা ও সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) এবং ঢাকার সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবু (৩৭)। হস্তান্তরের সময় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ, পোর্ট থানা পুলিশ ও আইসিপি বিজিবি ক্যাম্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, এই দুর্ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ আজ দুপুর ১২টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। আর স্বজনদের সম্মতিতে নিহত রেবতী সরকারের সৎকার কলকাতাতেই করা হবে বলে জানা গেছে।
সংবাদকর্মী দেবাশীষ দত্ত জাতীয় দৈনিক 'আজকের পত্রিকা' ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'চ্যানেল নাইন'-এর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিক 'আজকের আলো' পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্ত্রী, সন্তান ও শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য গত ৩ আগস্ট তিনি ভারতে যান। ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা শেষে গত ১৭ আগস্ট (সোমবার) রাতে বিমানে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের 'শিখা ইন' হোটেলে ওঠেন।
পরদিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত দুইটার দিকে ওই হোটেলে হঠাৎ আগুন লাগলে শিশুসহ ৯ জন মর্মান্তিক প্রাণ হারান। বুধবার (১৯ আগস্ট) তাঁদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও সব প্রক্রিয়া শেষ করে কফিনে বন্দী হয়ে দেশে ফিরতে হলো দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারকে। পরিবারে তাঁর সাত বছরের এক কন্যাসন্তান (মহিমা দত্ত) রয়ে গেছে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, কলকাতায় হোটেল দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫ জনের মরদেহ আজ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ইমিগ্রেশনের প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।