
মোঃ বাবুল হোসেন পঞ্চগড়:
পঞ্চগড় জেলা শহরের তেতুঁলিয়া রোডস্থ আনোয়ার প্লাজায় মেডিকেয়ার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারটি অবশেষে বন্ধ করার নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত ৯ আগষ্ট তারিখে সাইদুজ্জামান রেজা নামের এক রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে পরিদর্শনে কান কাগজপত্র ও লাইসেন্স না থাকায় এটি বন্ধ করে দেয়া।
সাইদুজ্জামান রেজা মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে SGPT (ALT) পরীক্ষা করেন। তিনি একই পরীক্ষা অন্যত্র তিন জায়গায় করলে রিপোর্টে গরমিল হওয়ায় ১১ আগষ্ঠ তারিখে সিভিল সার্জন বরাবরে অভিযোগ দেন।
তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগষ্ট সকালে মেডিকেয়ার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শন কালে মেডিকেয়ার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। সেই সাথে লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিরত থাকতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন এর স্মারক নং-সিএ-স/পঞ্চ/প্রশা/২০২৬/৯৪৫ তারিখ ১২ আগষ্ট বলা হয়, মোতাবেক লাইসেন্স না থাকায় অত্র মেডিকেয়ার ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার বন্ধ করার নির্দেশের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হইল।
এ নোটিশ জারি করার পরে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিজেরাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, ১০ আগস্ট রোববার লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা লিভার পরীক্ষা করেন পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে। সেখানে তার লিভার এসজিপিটি পরীক্ষায় ১২৭ ইউএল সনাক্ত করা হয়। তার লিভারের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে আবারও এসজিপিটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ওই দিনই সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪) মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসজিপিটি পরীক্ষার জন্য রক্ত দিয়ে আবারও পরীক্ষা করান। সেখানে এসজিপিটি রিপোর্টে মাত্র ২৬.৭ ইউএল পাওয়া যায়। এতে সাইদুজ্জামান রেজা ডায়াবেটিক হাসপাতালের এসজিপিটি রিপোর্টের সাথে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টে ব্যবধান অনেক বেশি হওয়ায় মেডিকেয়ার ডায়াবেটিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তার লিভারের সঠিক অবস্থা জানতে আবারও চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এ সময় চিকিৎসক আবারও এসজিপিটি পরীক্ষার পরামর্শে পরদিন গতকাল ১০ আগস্ট সোমবার সঠিক পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয় বারের মত এসজিপিটি পরীক্ষা করান আধুনিক সদর হাসপাতালে। সেখানে তার এসজিপিটি পরীক্ষার রিপোর্টে ১২১ ইউএল পাওয়া যায়। এ নিয়ে তার সাথে প্রতারনা হয়েছে মর্মে সাইদুজ্জামান রেজা মঙ্গলবার ১১ আগস্ট সকালে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন বরাবর মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ এনে লিখিত দেন।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরূদ্ধে প্রতারনার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরজমিনে গিয়ে তদন্ত করে তাদের কাগজ পত্র যাচাই করি। তাদের কোন বৈধ কাগজ না থাকায় ও লাইসেন্স না থাকার কারনে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাগজপত্র ঠিক না করা পর্যন্ত তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি চালাতে পারবে না।