রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষা সম্মেলন ‎পাইকগাছায় স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ‎পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পীরগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বি-তরণ মুকসুদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন রাতের আঁধারে জ-বাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন ক্ষেতলালে চারজনকে জ-রিমানা চারঘাটে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় চাকরি, পরে অব্যাহতি—সংবাদ প্রকাশের পরও বহাল ইমন রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময়

বরিশালে সরকারি টাকা আ/ত্মসাতের অভিযোগে এলাকাবাসীর পোস্টারিং

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮৬ Time View

কে এম সোহেব জুয়েল ঃ

ভুয়া তথ্য দিয়ে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত এতিমখানার টাকা ও মাদ্রাসা উন্নয়নের নামে বিদেশ থেকে আসা অনুূদানের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে আমিনুল ইসলাম নামের এক মোহতামিমের বিরুদ্ধে পোস্টারিং করেছেন এলাকার ধর্মপ্রান মুসুল্লীগণ।

ওই পোস্টারে পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী নুরানী হাফেজী ও কওমী মাদ্রাসা এবং এতিমখানার মোহতামিম হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কর্মরত রয়েছেন।

অভিযুক্তর ছবিসহ প্রচারনা চালানো ওই পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে-এলাকার সহজ সরল মুসলিমদেরকে ধোকা দিয়ে অবৈধ উপায়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা ছাড়া ইফতা তথা মুফতির জাল সনদ প্রদান করেন অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া তিনি মাদ্রাসার ২৪ জন এতিম ছাত্রদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত মাসিক দুই হাজার টাকা করে ৪৮ হাজার টাকা নিজে ভোগ করেন। কাগজে কলমে যেসব শিশুদের এতিম দেখানো হয়েছে তারা কোন এতিম সন্তান নয়। তাদের কারো কারো বাবা প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবী। সমাজ সেবা অধিদপ্তরে মিথ্যে তথ্য দিয়ে সরকারের বিপুল পরিমান টাকা আত্মাসাত করে আসছেন অভিযুক্ত মোহতামিম আমিনুল ইসলাম।

সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকারিভাবে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিমাসে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও মাদ্রাসার বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয় আমরা কোন এতিম ছাত্রের জন্য সরকারি অনুদান পাই না। এতে করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে বলেও ওই পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানে এতিম ছাত্র রয়েছে ১০/১২ জন কিন্তু আমিনুল ইসলাম কাগজপত্রে ৭০ থেকে ৮০ জন এতিম ছাত্র দেখিয়ে আসছেন। বিদেশী অনুদানের জন্য মাদ্রাসায় সাতশ’ জন ছাত্র-ছাত্রী দেখিয়ে বছরে প্রায় এক কোটি টাকা অনুদান আনলেও বার্ষিক রিপোর্টে ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে বাকি ৭০ লাখ টাকা আমিনুল ইসলাম নিজেই আত্মসাত করেন।

পোস্টারে আরও উল্লেখ রয়েছে, মাদ্রাসার টাকা আত্মাসাত করে অমিনুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে একটি বিশাল গরুর ফার্ম ও একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় এলাকার লোকজন জায়গা এবং অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার পরেও বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা বলে এলাকার সাধারণ জনগণকে হেনস্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার (আমিনুল) বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর অভিযোগ উল্লেখ করে পোস্টারে উল্লেখ করা হয়, এক ইতালী প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে কৌশলে প্রেমের সস্পর্ক স্থাপন করে অসামাজিক কার্যকলাপের সময় এলাকাবাসীর কাছে হাতেনাতে ধরা পরার পর তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে সেই দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য উপজেলার টরকী বন্দরে চার তলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মান করে দেয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একজন মাদ্রাসার শিক্ষক কতো টাকা বেতন পান, যা দিয়ে টরকী বন্দরের মতো জায়গায় চারতলা বিশিষ্ট বাড়ি করা সম্ভব।

পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলাম ধর্মে সুদকে বারবার হারাম বলা হলেও আমিনুল ইসলাম টরকী বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছে মাদ্রাসা ফান্ডের লুন্ঠিত টাকা সুদের ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। যা বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসা কমিটির মাধ্যমে আমিনুল ইসলামকে সর্তক করা সত্বেও তিনি (আমিনুল) কোন ভ্রুক্ষেপ না করে সুদের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন।

পোস্টারের সবশেষে আমিনুল ইসলামকে ধর্ম ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে উল্লেখিত সকল অভিযোগের সঠিক তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ মাদ্রসার ও এতিমের আত্মসাতকৃত সকল টাকা মাদ্রাসা ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উল্লেখিত সকল অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত মুহতামিম আমিনুল ইসলাম বলেন-বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই পোস্টার করা হয়েছিলো। সেসময় সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি।

তিনি আরো বলেন, এতিমখানায় আগে ২৪ জন ছাত্র ছিলো, বর্তমানে ৪৭ জন ছাত্র রয়েছে। তিনি (আমিনুল ইসলাম) কোন রাজনীতি করেন না দাবি করে বলেন-আগে একটি মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা এসেছিলো। সেই ছবিগুলো এখন প্রচার করে আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে বিএনপির নেতারাও আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। সুদ ব্যবসার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

অপরদিকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের গৌরনদী উপজেলা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা বলেছেন-প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম বলেন-উল্লেখিত অভিযোগের ব্যাপারে কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। তারপরেও সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin