
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু ।।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত আটার একটি অংশ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বরখাস্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তাকে কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার একটি গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে খাদ্য অধিদপ্তর।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলায় প্রতিদিন ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য দুই টন আটা এবং দুই টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল ক্রয় করতে পারেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটার বিপরীতে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও সেখানে নিয়মিত মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা থেকে বঞ্চিত হতেন। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত সোমবার সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, সেখানে ৪০ বস্তার পরিবর্তে মাত্র ২০ বস্তা আটা রয়েছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি কর্মচারীদের কাছে বাকি আটার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা জানান, ২০ বস্তা আটাই এসেছে। এ ঘটনায় তাঁর সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বুধবার উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।