
এম এ আলিম রিপন,সুজানগর :
চলে গেলেন সুজানগর পৌর শহরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন( জালাল কেরানী)। সবাইকে কাঁদিয়ে অন্তিম শয়ানে চির বিদায় নিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সোমবার রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে শামীম মাহমুদ, শাহিন মাহমুদ পলাশ ও জামিল মাহমুদ পায়েল, এক মেয়ে, মেয়ে জামাতা, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার সুজানগর উপজেলা মডেল মসজিদে দুপুর ২টায় প্রথম জানাজা নামাজ এবং পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে তিনটায় চরতারাপুর ইউনিয়নের খাপরাডাঙ্গিতে তার দ্বিতীয় জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সুজানগর মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজা নামাজে ইমামতি করেন সুজানগর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম।
জানাজা নামাজে
বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ শরীক হন।জানাজা শেষে খাপড়াডাঙ্গী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন ১৯৫১ সালে পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোহাইলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি সুজানগর পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের শহীদ দুলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। জীবিত কালীন তিনি কর্মজীবনের প্রথমে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের কেরানী এবং পরবর্তীতে চরতারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৯ সালে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। চাকরি করা কালীন তিনি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সুজানগর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয়রা জানান, আলহাজ্ব জালাল উদ্দিন ছিলেন একজন কাজের মানুষ, একজন কাজের মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই। জীবনের শেষ বয়সেও ছিলেন তেমনই কাজ পাগল একজন মানুষ। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, বিকেল হয়, সন্ধ্যার পর রাতের আঁধার নেমে আসে। কিন্তু তিনি ব্যস্ত থাকতেন কিভাবে মসজিদের উন্নয়ন করা যায়।
তার যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষতা ও পরিশ্রমের ফলে বাজার মসজিদের অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।