আজ বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি এস মিজানুল ইসলাম মিজানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার মৃত্যুবার্যিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিচুজ্জামান অনিচের প্রয়াত সাংবাদিক এস মিজানুল ইসলাম মিজান'কে নিয়ে স্মৃতিচারন করেছেন। যা হুবুহু তুলে ধরা হলো।
মিজান ভাইয়ের সাথে জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় অতিবাহিত করেছি।অনেক স্মৃতি রয়েছে। তৎকালীন প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম ও প্রেস ক্লাব সদস্য মেজবাহ উদ্দিনের মাধ্যমে তারিকুল ইসলামের বাসায় তার সাথে পরিচয়। আমি তখন বিএম কলেজে পড়ি সেই ১৯৯২ সাল থেকে মিজান ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক ছিলো।সেই সম্পর্কের কোন সময় ভাঙন ধরে নাই।কলেজ থেকে বিকেলে বানারীপাড়ায় আসলে প্রেস ক্লাবে আড্ডা দিয়ে জব্বার হুজুরের পেপারের দোকানে কিছুটা সময় বসে রনাসাহার মিস্টির দোকানে সন্ধ্যার নাস্তা করতাম।বেশিরভাগ সময়ই মিজান ভাই বিল দিতো।এটিএম মোস্তফা সরদার ভাই ও প্রায় সময়ই থাকতো।সে অনেক স্মৃতি। আমি তখন বানারীপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ছিলাম।মিজান ভাই সভাপতি ছিলো।মিজান ভাই তখনকার জনপ্রিয় পত্রিকা আজকের কাগজ ছেড়ে সদ্য প্রকাশিত যুগান্তরের বানারীপাড়া প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করলে আমি আজকের কাগজে প্রতিনিধি হই।এর পরে দৈনিক ইত্তেফাক এবং সর্বশেষে আমার দেশের প্রতিনিধি ছিলাম।আমাদের বিশেষ করে মিজান ভাই.মোস্তফা ভাই ও আমি বিকেল বেলায় একসাথে না হলে কেমন যেন অপূর্ণ থাকতো আড্ডা। আমাদের এ আড্ডায় মাঝে মাঝে যোগ হতো নান্টু ভাই,সামসুল আলম মল্লিক ও সুব্রত লাল কুন্ডু। এ আড্ডায় দেশের রাজনীতি,বহিঃ বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় ও বানারীপাড়া সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বেশি কথা হতো।আমি ১৯৯৬ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি।তখন বরিশালেই বেশি সময় দিতে হতো।প্রতিদিনের সেই বিকেলের আড্ডাটা আমার সাপ্তাহিক আড্ডায় পরিনত হয়।তখন প্রেস ক্লাবের সকল দায়িত্ব মিজান ভাইকেই সামলাতে হতো।উপজেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাকেই যেতে হতো।আমি তখন কিন্তু সাংবাদিক পরিচয়ের থেকে ছাত্র সংগঠনকেই বেশি গুরুত্ব দিতাম।১৯৯৮ সালে যখন বিএম কলেজে ভিপি পদে নির্বাচন করি তখন মিজান ভাই আমাকে ৫০০ টাকা দিয়েছিল।তখন ৫০০ টাকায় ১০০০ পোস্টার হতো।আমি তার ৫০০ টাকা পেয়ে আশ্চর্য হয়েছিলাম।প্রথমে আমি নিতেও চায়নি।তখন তার স্বভাবসুলভ ভংগিতে বলেন আমি তো তোমার বড় ভাই।আমারও তো দায়িত্ব রয়েছে। তুমি বড় কিছু হলে তো আমাদেরই গর্ব। ঐ সময় আরেক ভাই মোস্তফা সরদার ৫০০ টাকা এবং চালের আড়ৎদার শাহ আলম ভাই ১০০০ টাকা দিয়েছিলো। সম্ভবত ১৯৯৯ সালের দিকে মিজানভাই চাকুরীর সুবাধে মাদারীপুরে কয়েক বছর কাটায়। আমারও রাজনীতির সুবাদে ঢাকা ও বরিশালে থাকা হয়।মিজান ভাই ছুটিতে আসলে মাঝে মাঝে দেখা হতো।এখান থেকেই উভয়েরই কর্ম ব্যস্ততার কারনে দূরত্ব তৈরী হয়।যদিও সে মনে হয় ৪/৫ বছর পর চাকুরী ছেড়ে বানারীপাড়া চলে আসে। আবার সাংবাদিকতায় সক্রীয় হয়।।আমি ও ইতালী চলে আসি।দেশে গেলে দেখা হতো কিন্তু সেই আড্ডা আর হতো না।কিন্তু আন্তরিকতা ছিল। ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান শাহীন হাফিজ একদিন আমাকে বলে বানারীপাড়ায় ইত্তেফাকের প্রতিনিধি নিতে চায়।আমি তখন মিজান ভাইয়ের নাম প্রস্তাব করি এবং মিজান ভাইকে ফোন করে শাহীন হাফিজের সাথে যোগাযোগ করতে বলি।মিজান ভাই নিয়োগ পেয়েই আমাকে ফোন করেছিল।ধন্যবাদ জানিয়েছিলো। এর মাঝে ২০১৮ সালে বানারীপাড়ায় জাসদের জনসভায় লোক সমাগম দেখে উল্লাসিত হয়েছিল। ২০১৮ সংসদ নির্বাচনে যখন আমি নির্বাচন করি তখন ও আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। অনেক স্মৃতি রয়েছে তার সাথে।আজ মিজান ভাই নেই প্রিয় মোস্তফা ভাই নেই.নান্টু ভাই নেই.মিল্লাত নেই ও খলিল নেই। সবাইকেই মনে পড়ে। আল্লাহ সকলকে বেহেস্ত নসিব করুন।