
নিজস্ব প্রতিবেদক: তরিকুল ইসলাম তরুন
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ (Gravity Engine) সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষক ও উদ্ভাবক আবদুর রহমান সুহাইল তাঁর উদ্ভাবিত ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ও দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুর রহমান সুহাইল জানান, ২০১৬ সালের ৬ জুলাই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতে তিনি তাঁর উদ্ভাবিত ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। তাঁর দাবি, ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ এমন একটি প্রযুক্তি, যা তেল, গ্যাস, কয়লা বা অন্য কোনো প্রচলিত জ্বালানির ইনপুট ছাড়াই সরাসরি মহাকর্ষীয় বলকে কাজে লাগিয়ে শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।
উদ্ভাবনের কার্যপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এক টন ওজনের কোনো বস্তুকে এক মিটার উচ্চতা থেকে ছেড়ে দিলে মহাকর্ষীয় বলের কারণে সেটি নিচে নেমে আসে। এ সময় বস্তুটির পতনের শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। তবে প্রচলিত পদার্থবিজ্ঞানের হিসাবে, ইঞ্জিনের ক্র্যাংকশ্যাফটকে পুনরায় ঘোরানোর জন্য বস্তুটিকে আগের অবস্থানে তুলতে শক্তি প্রয়োজন হবে। তাঁর দাবি, তাঁর উদ্ভাবনের মূল কৌশল হলো—বস্তুটির কার্যকর ওজন শূন্যে নামিয়ে এনে পুনরায় ওপরে তুলতে প্রয়োজনীয় শক্তির ব্যয় কমিয়ে দেওয়া বা এড়ানো।
তিনি বলেন, তাঁর প্রস্তাবিত ইঞ্জিনে দুটি চেম্বার থাকবে। প্রথম চেম্বারে এক টন ওজনের বস্তু নিচে নামার সময় উৎপন্ন শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এরপর বস্তুটি দ্বিতীয় চেম্বারে প্রবেশ করলে এর কার্যকর ওজন শূন্য হয়ে যাবে বলে তিনি দাবি করেন। ফলে বস্তুটিকে পুনরায় ওপরে তুলতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হবে না এবং এভাবেই ক্র্যাংকশ্যাফট অনবরত ঘুরতে পারবে বলে তাঁর বক্তব্য।
আবদুর রহমান সুহাইল আরও জানান, তাঁর বক্তব্য শোনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাঁকে প্রস্তাবটি লিখিত আকারে জমা দিতে বলেন। সে অনুযায়ী তিনি মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, তিনি সরকারের কাছে কোনো আর্থিক অনুদান, বিশেষ সুবিধা বা একচেটিয়া অধিকার চান না। এমনকি পেটেন্ট-সংক্রান্ত ব্যয়সহ অন্যান্য খরচও নিজেই বহন করতে প্রস্তুত। তাঁর একমাত্র অনুরোধ, জাতীয় স্বার্থে সরকার পদার্থবিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন টিম গঠন করুক। ওই টিম তাঁর তৈরি Functional Prototype বৈজ্ঞানিক, গাণিতিক ও কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁর উদ্ভাবনের সফলতা সম্পর্কে তিনি শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। তবে শুধুমাত্র তাঁর দাবির ভিত্তিতে সরকার যাতে সময়, অর্থ বা জনবল ব্যয় না করে, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, সরকারি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে সরকার পেটেন্ট প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব নিলে বিষয়টি আরও নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য হবে।
আবদুর রহমান সুহাইল জানান, বর্তমানে নিজ উদ্যোগে পেটেন্ট আবেদন করতে তাঁর অনীহার অন্যতম কারণ পেটেন্ট প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর আস্থার সংকট। তাঁর প্রত্যাশা, সরকার নিজস্ব বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করে জাতীয় স্বার্থে নিরাপদভাবে পেটেন্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকে তাঁর বাসার আশপাশে অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি বা সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
আবদুর রহমান সুহাইলের বক্তব্য অনুযায়ী, International Energy Agency (IEA)-এর তথ্য অনুসারে বিশ্বে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করা হয় এবং একই সঙ্গে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর দাবি, ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল, গ্যাস ও কয়লার ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে এবং ব্যাপকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। এর ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্প উৎপাদনের ব্যয় হ্রাস, পণ্যের দাম কমে আসা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি মানবসভ্যতার অর্থনৈতিক, শিল্প, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
আবদুর রহমান সুহাইলের দাবি, তাঁর উদ্ভাবন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লাভ করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার বাংলাদেশ। বিশ্বের সম্ভাব্য এই প্রযুক্তির পেটেন্ট ও উন্নয়নের সূচনা তিনি বাংলাদেশ থেকেই করতে চান। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে বা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে মানবজাতির কল্যাণের স্বার্থে তিনি বিদেশে গিয়ে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁর উদ্ভাবনের পেটেন্ট সম্পন্ন করবেন এবং প্রযুক্তিটি বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ‘গ্র্যাভিটি ইঞ্জিন’ তাঁর একমাত্র গবেষণা প্রকল্প নয়। তিনি বর্তমানে বিজ্ঞা