
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু
স্টাফ রিপোর্টার ।।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বড়িয়া এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের লোকজন অপর পক্ষের ব্যক্তিকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় গ্রামবাসীর হাতে ৭ জন আটক হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়িয়া গ্রামের ইমেল হোসেন এবং দুলালী ভেলনা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক লালুর পরিবারের মধ্যে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার ০৪ জুলাই সকালে আব্দুর রাজ্জাক লালুর নেতৃত্বে তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন বড়িয়া গ্রামে এসে ইমেল হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইমেল হোসেন চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে একজনকে আটক করেন। তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যান।
পরে আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে এলে গ্রামবাসী তাদের মধ্য থেকে আরও ৫ জনকে আটক করেন। এতে মোট ৭ জন জনতার হাতে আটক হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
ভুক্তভোগী ইমেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন,, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চললেও বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময় আমাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। শনিবারের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবিঃ ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, "আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক দখল ও অপহরণের চেষ্টা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।