রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :-
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিক্ষা সম্মেলন ‎পাইকগাছায় স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ‎পাইকগাছায় ১৫১টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গাপূজা; চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি পীরগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বি-তরণ মুকসুদপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক অভিযান ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন রাতের আঁধারে জ-বাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন ক্ষেতলালে চারজনকে জ-রিমানা চারঘাটে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় চাকরি, পরে অব্যাহতি—সংবাদ প্রকাশের পরও বহাল ইমন রুহিয়ায় সাংবাদিকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের মতবিনিময়

গোদাগাড়ীতে এক মাদ্রসার ছাত্রকে পিটিয়ে পেটে র/ক্তজমাট বাধা ও ২ টি দাঁত ভে/ঙ্গে দিয়েছেন শিক্ষক

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১৬৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহী গোদাগাড়ীর রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এক ছাত্রকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষক ইয়াসিন বিন রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। আহত ছাত্র জুবায়ের হোসেনের (১৪) একটি দাঁত ভেঙে যাওয়া, দুটি দাঁত নড়ে যাওয়া এবং তলপেটে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, ছাত্রটি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। আহত ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বিকেলে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষক ইয়াসিন জুবায়েরকে মারধর করেন। আঘাতের তীব্রতায় জুবায়েরের একটি দাঁত ভেঙে যায় দুটি দাত লড়ে যাই এবং তলপেটের ভেতর মারাত্মক জখম হয়ে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। বর্তমানে সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

​আহত ছাত্রের বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষক যে দাবি করছেন আমার ছেলে বাথরুমে পড়ে আহত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাকে মারধর করেই আহত করা হয়েছে। ডাক্তার এবং আমার ছেলের ভাষ্যমতে আঘাতের চিহ্ন ও শারীরিক অবস্থা সেটিই প্রমাণ করে।

প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, যা বর্তমানে চিকিৎসার মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইয়াসিনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজে কথা না বলে তার এক বন্ধুকে দিয়ে বক্তব্য দেন। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, মাদ্রাসার কিছু ছাত্র মোবাইলে আসক্ত ছিল এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে আড্ডা দিচ্ছিল। সেই শৃঙ্খলা ফেরাতে গিয়ে শিক্ষক মোবাইল জব্দ করতে গেলে ছাত্রটি পালানোর সময় টয়লেটের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে একটি নির্দিষ্ট বয়ান পাঠিয়ে সে অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার সেক্রেটারি আবুল কাশেম জানান, ঘটনার দিনই তারা ছাত্রটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এবং চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি মোবাইল কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। আমরা অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগে না গিয়ে ছাত্রটির সুচিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসার ডোনার ও জনগনের তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন, শিক্ষকের দৃষ্টন্তমূলক দাবী করেছেন। স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষক কোনোভাবেই ছাত্রের গায়ে এইভাবে হাত তুলতে পারেন না! তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ওই মাদ্রাসার কমিটির সদস্য আব্দুল হান্নান জানান, এখন মাদ্রাসায় ছুটি চলছে। জুবাইয়ের মাদ্রাসার হোস্টেলে না থেকে গোদাগাড়ীতে একটি রুম ভাড়া নিয়ে বসবাস করতো। সেই রুমে মাদ্রসার কয়েকজন ছাত্র মোবাইল নিয়ে আড্ডা দিত খবর পেয়ে ওই শিক্ষক সেখানে যান এবং ছাত্ররা শিক্ষককে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় টয়লেটের দেয়ালে আঘাত পান। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাসন করার জন্য কিছুটা মারধোর করেন শিক্ষক। তিনি আরও জানান, ওই ছাত্রকে মেডিকেলে ভর্তি, চিকিৎসার ব্যয় সব কিছু বহন করেছে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। তবে এলাকার কিছু লোক মাদ্রাসায় এসে বিক্ষেপ করেছে, মাদ্রসায় তালামারার হুমর্কী প্রদান করেছে। এঘটনায় ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা এ সদস্য।

সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক পাঠদানের জন্য কোন শিক্ষার্থীকে মারধোর করা যাবে না। তারপরেও হুজুরদের এ প্রবনতা কেন আসে, তাদের খুটির জোর কোথায় জনমনে প্রশ্ন জেগেছে।

​বর্তমানে শিশু জুবায়েরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও স্বজনরা দুশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করা চেষ্টা না করে প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে বিষয়টির সুন্দর সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন সরজমিনে তদন্ত করে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক,
রাজশাহী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved.©natunbazar24.com
Developed by: A TO Z IT HOST
Tuhin