
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী
নওগাঁর মান্দায় মিথ্যা অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) ভুক্তভোগী জিয়াউল হক। শুক্রবার (৩জুলাই) নিজ এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলনে করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল হক বলেন, বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা জাহানারা বেগম আমার বিরুদ্ধে গত ১০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগে শুধু গালিগালাজ এবং মারধরের হুমকির কথা বলা হয়েছে।
এদিকে যেহেতু বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীন তাই গত ১৮জুন প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকদের সমন্বয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রতিষ্ঠানে জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। ঠিক সেই সময় বহিরাগত কিছু লোকজন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশীভূত হয়ে মব সৃষ্টি করে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করে। সে সময় আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করি এবং প্রতিষ্ঠান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে আমি রাজশাহীতে চিকিৎসা গ্রহণ করি। চিকিৎসার যাবতীয় কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক বরাবর জমা দিয়ে ছুটির আবেদন করেছি। পরবর্তীতে ঘটনার চারদিন পর ২১ জুন শিক্ষিকা বাদী হয়ে আবার বিরুদ্ধে ১০ ধারায় মান্দা থানায় একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করেন।যা পূর্বের অভিযোগের সঙ্গে এই অভিযোগের কোন মিল নেই। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগতভাবে আমার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে শিক্ষিকাকে ব্যবহার করে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রকাশিত অসত্য সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। সেই সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট আমার আকুল আবেদন সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা। এ বিষয়ে জানতে অভিযোগকারী সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের এক জৈষ্ঠ শিক্ষক বলেন, একটি গোষ্ঠী জিয়াউল হককে ফাঁসিয়ে বসে আনতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় একই প্রতিষ্ঠানের নারী সহকর্মীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে তারা শিকার করতে চাইছে।শিক্ষক জিয়াউলের বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত এটা সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ জিয়াউলের বিরুদ্ধে গত ১০ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)কাছে করা অভিযোগে শুধু গালিগালাজ এবং মারধরের হুমকির কথা বলা হয়েছে।
অথচ গত ২১ জুন একই ব্যক্তি বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ১০ ধারায় মান্দা থানায় একটি অভিযোগ করেন।যার সঙ্গে পূর্বের অভিযোগের কোন মিল নেই।
এদিকে একই ব্যক্তির করা দুটি অভিযোগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এটিই প্রমাণ হয় এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট,মানহানিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি গোষ্ঠী ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষক জিয়াউলের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে শিক্ষিকাকে ব্যবহার করে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করে যাচ্ছেন।
এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও শিক্ষিকা জাহানারা বেগমের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে জিয়াউল হক বলেন,তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।#