আজকাল অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা দ্রুত গতিতে বেড়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল যে, এই সংখ্যা এমন আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণ কি? আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা নাকি অন্য কিছু? অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ শুধুমাত্র দেশের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা নয় বরং অন্যান্য কারণসমূহ অসীম। কিন্তু অপরাধ ও অপরাধীর সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ আইন অর্থাৎ বিদ্যমান আইনের ধীরগতির প্রয়োগ,দুর্বল বিচারহীনতার সংস্কৃতি,যুগোপযোগী আইনের অভাব ও রাজনৈতিক বলয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্ষণ,নিপীড়ন,হামলা ও সহিংসতার মতো অপরাধ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। কোনো একটি ভয়াবহ ঘটনা সামনে এলে আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করি,বিচার দাবি করি ও শাস্তি চাই। তারপর কিছুদিন চলে গেলে পূর্বের থেকে আরও ভয়াবহ ঘটনার সম্মুখীন হই,যা আমাদের টনক নাড়িয়ে দেয়। একজন অপরাধী অপরাধ করার সাহস তখনই পায় যখন সে দেখে সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন,কোনো আইন তাকে শাস্তি দিতে পারছেনা অর্থাৎ দেশের প্রচলিত আইন তাকে(অপরাধী) শাস্তি দিতে ব্যর্থ। যা আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার ব্যাপার। বর্তমানে আমাদের দেশের আদালতে যখন কোনো মামলা আসে তখন আদালত বিভিন্ন কারণে শুনানির তারিখ পরিবর্তন করে কিন্তু সেই মামলার চূড়ান্ত রায় আর সহজে ঘোষণা করা হয়না।
যেমন মাগুরার আলোচিত ৮ বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার কথাই ধরা যাক। ২০২৫ সালে মাগুরার আট বছর বয়সী আছিয়া তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়,পরবর্তীতে আছিয়ার পরিবার তার বড় বোনের শ্বশুরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরার থানায় মামলা করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে একই বছরের ১৭ই মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিতু শেখকে (নিহতের বোনের শ্বশুর) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয় ও অপর তিন আসামিকে খালাস প্রদান করে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্টে 'ডেথ রেফারেন্স' অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যার জন্য আসামির আপিল হাইকোর্টে প্রেরণ করা হয়। ২০২৬ সালের জুন মাসে এসে রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছে অর্থাৎ "আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা" ঘটনার এক বছর পরও বিচারকার্য সম্পন্ন হয়নি।
এরূপ ঘটনার ফলে মামলার বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা নয় বরং ধীরে ধীরে জনসাধারণের আইনের প্রতি যে অগাধ বিশ্বাস ছিল,সেটাকি তাহলে বিদ্যমান আইনের উপর থেকে কি আস্থা হারাচ্ছে জনসাধারন।
তাহমিদ জেরিন নুর
শিক্ষার্থী,
স্নাতক সম্মান (আইন) প্রথম বর্ষ
নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।