
খলিলুর রহমান খলিল,নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
সরকারি চাকুরির স্পষ্ট বিধিমালাকে উপেক্ষা করে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীনুর রহমান। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তিন বছর পরপর বদলির নিয়ম থাকলেও, এই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন যেন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণে সেখানে একটি একচেটিয়া প্রভাব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অফিশিয়াল নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোঃ শাহীনুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি একই চেয়ার আঁকড়ে ধরে আছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অন্য অনেক কর্মকর্তা বদলি হয়ে আসলেও এবং চলে গেলেও শাহীনুর রহমানের আসনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সরকারি চাকুরির বিধিমালা অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি নির্দিষ্ট কর্মস্থলে সর্বোচ্চ ৩ বছর দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের স্থানীয় সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া প্রভাব তৈরি হতে না দেওয়া। কিন্তু তারাগঞ্জের এই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এই নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। কোনো বদলি বা জবাবদিহিতার মুখোমুখি না হওয়ায় স্থানীয় মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে, যা পুরো উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষক ও সচেতন নাগরিক জানান, "একই টেবিলে এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে একজন কর্মকর্তা বসে থাকায় প্রশাসনিক কাজে একঘেয়েমি ও স্বৈরাচারী মনোভাব তৈরি হয়। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এই দীর্ঘস্থায়ী রাজত্ব কীভাবে চলছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।"
তারাগঞ্জের ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় গতি ফেরাতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নিয়মের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সাথে এই কর্মকর্তার অনতিবিলম্বে বদলি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহীনুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান ও মন্তব্য করতে অনিয়া প্রকাশ করেন ।