
খলিলুর রহমান খলিল, নিজস্ব প্রতিনিধি:
রংপুরের তারাগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সানজিদা (৯) উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর কোরানীপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে। শনিবার বেলা দেড়টার দিকে বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে আর এক শিশুর সাথে ঝগড়া লাগে সানজিদার ,পরে তার মা তাকে রাগ দেখালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সানজিদা, শুক্রবার দুপুর থেকে সানজিদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি সন্ধ্যার পর মাইকিংও করা হয় । কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। পরে
শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভুট্টার গাছ ভাঙতে গিয়ে আসিফ( ১৭)নামের একজন কিশোর, বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ডালিয়া সেচ ক্যানালের পাশের একটি পাটখেতে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। ওই কিশোর চিৎকার চেঁচামেচি করলে ছুটি আসেন স্থানীয়রা , খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘটনাস্থল ও সানজিদার বাড়িতে ভিড় করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিছুল ইসলাম বলেন, “গতকালও শিশুটিকে খেলাধুলা করতে দেখেছি। আজ তার নিথর দেহ পাওয়া গেল। নিষ্পাপ এই শিশুর কী অপরাধ ছিল? আমরা ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানাই।”
ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সানজিদা আমার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গতকাল তাকে না পেয়ে পরিবার মাইকিং করেছে। আজ তার মরদেহ পাওয়া গেল। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, তার চোখ দুটি দাবানো ছিল।”