
আজিজুল ইসলাম, বেনাপোল প্রতিনিধি: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম সমন্বয়হীনতা এবং ন্যায্য মজুরি বঞ্চিত হওয়ার প্রতিবাদে বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকেরা। আজ রবিবার (১৪ জুন) সকাল থেকে বন্দরের দুটি নিবন্ধিত শ্রমিক সংগঠনের ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। এর ফলে বন্দরের পণ্য লোড-আনলোড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে।
পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ সকাল থেকেই কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকেরা। বন্দরের পুরাতন পোর্ট থানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক সমবেত হয়ে তাদের দাবি আদায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে বন্দর অভ্যন্তরে ও ভারতীয় সীমান্তে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। দ্রুত অচলাবস্থা নিরসন না হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য লোড-আনলোডিংয়ের জন্য পাঁচ বছর আগে টেন্ডার পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'হোসনেয়ারা এন্টারপ্রাইজ'। বন্দরের সাধারণ শ্রমিকেরা 'শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৮৯১)' এবং 'বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫)'-এর অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের সাথে নতুন কোনো চুক্তি, কাজের সমন্বয় বা কোনো ধরনের কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেনি। চরম অবহেলা ও আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়েই এতদিন শ্রমিকেরা কাজ সচল রেখেছিলেন। সমস্যার সমাধানে গত ৯ জুন বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে 'বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ'-এর চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছিলেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে গিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু জানান:"আমরা দেশের স্বার্থে এর আগেও কয়েকবার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করি। কিন্তু আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ন্যায্য মজুরি ও অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে এবার আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।"
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন বলেন, "পোর্ট চেয়ারম্যানের নিকট দুটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি আবেদন আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যার সুরাহা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দেশের বৃহত্তম এই স্থলবন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় স্বার্থে দ্রুত প্রশাসন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের সাথে আলোচনায় বসবে এবং এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাবে।