
হেলাল শেখঃ ঢাকার সাভারে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে স্থানীয় জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মামলায় আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে,অথবা ভিকটিমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হয় কিন্তু ধর্ষিতা ভিকটিমের ছবি বা ভিডিও গণমাধ্যম বা ফেসবুকে ভাইরাল করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে একাধিক আইনজীবী জানান।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় ৪জনের নাম উল্লেখ করে আরও একজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতাররা হলেন-সাইফুল ইসলাম রানা (৩৬), মজিবর রহমান (৪৮) এবং মেহেদী (১৮)। মামলার অপর আসামি সাকিব (২০) ও অজ্ঞাত একজন পলাতক রয়েছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, সাকিব গ্রেফতার মেহেদীর আপন ভাই। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সবাই ভুক্তভোগী গৃহবধূর প্রতিবেশী। প্রধান আসামি রানা বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার এই ঘটনার দিনগত রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে বাসায় রেখে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি মেলায় যান। রাত ৩টার দিকে কয়েকজন মিলে ভিকটিম গৃহবধূর কক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভিকটিম জানায় তিনি দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় এবং কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনার একদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রানা বাসায় ফিরলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক ভারপ্রাপ্ত (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার পর মামলা দায়ের হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছে।
এদিকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মডেল থানায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামীর ও পরিবারের সদস্যদের কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। তখন পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে ভাড়া বাড়িতে ওই গৃহবধূ চাটাইয়ে ঘেড়া টিউবওয়েলে গোসল করছিলেন। এসময় পাশের রুমের ভাড়াটিয়া রানাসহ প্রতিবেশী আরও দুইজন ওই গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করে এবং অপর দুইজন ভিডিও করে। পরে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে পূণরায় বুধবার রানাসহ তিনজন গৃহবধূকে পালাক্রমে আবারও ধর্ষণ করে। এরপর বৃহস্পতিবার ওই তিনজনসহ আরও দুই জন মোট পাঁচ ব্যক্তি এই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে। শনিবার ছয়টার দিকে গৃহবধূ আত্মহত্যা করতে চাইলে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চায়। পরে গৃহবধূ বিষয়টি বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে রাত আটটার দিকে পেশায় রাজমিস্ত্রী রানা বাসায় ফিরলে তাকে আটক করে পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি স্থানীয়রা জানলে রানাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা বলেছিলেন গৃহবধূকে ব্লাকমেলিংয়ের মাধ্যমে টানা ৩ দিন ধর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু মামলায় ১ দিন উল্লেখ করা হলো কেন?
বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬ইং) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) নূর মোহাম্মদ বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসলে বিস্তারিত জানা যাবে। আর ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের ছবি ও পুনরায় ভিডিও করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা বিষয়টি আদালতে বিচারক দেখবেন।