
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া এক নারীর ৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খোদ ওই নারীর আপন ভাতিজাই ছিল এই ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী। পুলিশ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকৃত পুরো ৬ লাখ টাকাসহ মূল পরিকল্পনাকারী ভাতিজাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে ও ভুক্তভোগী নারীর ভাতিজা মো. লিটন শেখ (৪০), জলিলপুর গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে আমিনুর রহমান খান (২৪) এবং মো. মোস্তফা জামান ওরফে বরকত বিশ্বাস (৪৭)। এ ঘটনায় জড়িত শাওন বদ্দি (২৩) নামে আরও একজন এখনো পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১১ মে) মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের সেলিনা বেগম (৫০) একটি এনজিও থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের একটি ব্যাংক থেকে ওই টাকা উত্তোলন করে তিনি তার ভাতিজা লিটনের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল নাগাদ তারা মহেশপুরের মথুরানগর গ্রামের দত্তনগর-জলিলপুর সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল আরোহীরা সেলিনা বেগমের হাত থেকে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই মহেশপুর থানা পুলিশ অভিযানে নামে। ঘটনাস্থলের আশেপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ একটি ‘ইয়ামাহা ফেজার’ মোটরসাইকেল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। সেই মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে আমিনুর রহমান খানকে আটক করে।জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আমিনুর স্বীকার করে যে, সেলিনা বেগমের সাথে থাকা তার ভাতিজা লিটনই ছিল এই ছিনতাইয়ের মাস্টারমাইন্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিটন ঘটনাস্থলে এসে নিজের মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয় যাতে সহযোগীরা সহজেই ব্যাগটি টান দিতে পারে। আমিনুরের তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ছিনতাইকৃত ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এরপর পৃথক স্থান থেকে লিটন ও বরকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামি শাওন বদ্দিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মহেশপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং- ২১, তারিখ: ১১/০৫/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।
আতিকুর রহমান
ঝিনাইদহ।।