
হেলাল শেখঃ ঢাকার প্রধান শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাং ও মাদকসেবী সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক ভাবে চলছে বাড়িঘর, ঝুট ও নেট ব্যবসা দখলের অভিযোগ, এসব নিয়ন্ত্রণে প্রায়ই গুলি করে এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে পোশাক কারখানাগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি ও শ্রমিক আন্দোলন করতে শ্রমিকদেরকে উসকে দেয়ার অভিযোগ।
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) সকালে এলাকাবাসী জানায় গত রাতে আশুলিয়ার জামগড়া ও ভাদাইলের মধ্যে রূপায়ন আবাসন-১ এর মাঠের ভেতরে প্রায় ৩ থেকে ৪ রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে দুর্বৃত্তরা। আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন বন্ধ পোশাক কারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে একাধিক শ্রমিক সংগঠনের কিছু নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন, এদিকে নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় জ্বীন-ভূতের আতঙ্কে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক আহত অসুস্থ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় ছোট-বড় অনেক গার্মেন্টস কারখানায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় অনেক আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। ৫ আগস্টের পর আশুলিয়া থানার প্রায় ৭জন ওসি বদলি বা ক্লোজড হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে আর ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী কিশোর গ্যাং মাদক সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু শ্রমিক নেতা ও অসাধু লোকজন অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, মাদক সেবন ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও কেন তাদেরকে আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না তা জাতি জানতে চায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকজনের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে আশুলিয়ায় প্রায় ছোট বড় শতাধিক কারখানা বন্ধ হওয়ায় কয়েক লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, ঝুট, নেট ও ডিস লাইন ব্যবসা দখল নিয়ে গুলাগুলি ও ফাঁকা মাঠে গুলির বিষয়সহ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তারা মত দিয়েছেন।