
মোংলা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের আমরা গর্বিত অভিভাবক। সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ নিধন আমাদেরকে কঠোর ভাবে দমন করতে হবে। সরকার ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসুচি হাতে নিয়েছে। আগামী ৫ বছরে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃ খনন করা হবে। শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি অনুসরণ করে এই কর্মসুচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় অবৈধ দখলমুক্ত করে খাল গুলো সংস্কার করা হবে।
শুক্রবার ৮ মে বিকেলে মোংলার কাইনমারিতে চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পরিবেশ সমাবেশে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের আয়োজনে এ পরিবেশ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও মাসব্যাপী বৃক্ষ রোপণ কর্মসুচির উদ্বোধন উপলক্ষে এ পরিবেশ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ'র কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। পরিবেশ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক ও শেখ রুস্তম আলী। পরিবেশ সমাবেশ পরিচালনা করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। পরিবেশ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন 'ধরা' নেত্রী কমলা সরকার, নারী উদ্যোক্তা রাফিয়া জাহান মিশু, সংবর্ধিত অতিথি বৃক্ষ দরদী তৃষ্ণা সরকার, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, সাংস্কৃতিক সংগঠক জানে আলম বাবু, সার্ভিস বাংলাদেশ'র মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, গীতিকার মোল্লা আল মামুন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ'র মেহেদী হাসান, অ্যাডলিনা পায়েল প্রমূখ। পরিবেশ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম আরো বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। রামপালে সরকার ৪৪১ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান করবে। রাজধানীতে বিদ্যুতের লোড কমাতে সব বাসা বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সভাপতির বক্তব্যে 'ধরা'র কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ'র কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষায় সারাদেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পরিবেশ রক্ষায় জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করবে। সুন্দরবন সংলগ্ন এই অঞ্চলে বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অব্যবহৃত জমিতে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন ও দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করতে পারে। পরিবেশ সমাবেশে বক্তারা বলেন সুন্দরবনকে শুধু রাজস্ব আয়ের আধার না ভেবে এর পরিবেশগত মূল্যকে অগ্রাধিকার টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবন প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণে বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্র হুমকিতে পড়েছে। জলজ প্রাণীর জীবন ও আবাসস্থল রক্ষায় প্লাস্টিক পলিথিন দূষণ বন্ধের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদনের জন্য ৪জনকে "সবুজসাথী সম্মাননা-২০২৬" প্রদান করা হয়। যাদেরকে সবুজসাথী সম্মাননা প্রদান করা হয় তারা হলেন ম্যানগ্রোভ বৃক্ষ রোপণে নিরঞ্জন গুপ্ত ও বিনয় অধিকারী, ফলদ বৃক্ষ রোপণে তৃষ্ণা সরকার ও জনি হালদারকে। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যম পরিবেশ সমাবেশ শুরু হয় এবং পরিবেশ বিষয়ক গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।