
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৭নং দেওপাড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা মৌজায় অবস্থিত 'গণকের ডইং' আদিবাসী গ্রামের একটি পুকুর লিজ দেয়ায় বিপদে পড়েছে আদিবাসীর ৮০ টি পরিবারের সদস্যগণ। বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের জন্য পুকুরটি অনিয়ম করে লিজ দেওয়া হয়েছে 'গহমাবোনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড' নামের একটি সংগঠনকে।
এখানে বড় একটি প্রশ্ন উঠেছে পবা উপজেলার একটি সমিতি কীভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বা কোন যুক্তিতে অন্য উপজেলার (গোদাগাড়ী) একটি গ্রামের একমাত্র ব্যবহার্য পুকুর লিজ পায়! একটি গ্রামের মানুষের গোসল, রান্না ও দৈনন্দিন কাজের একমাত্র উৎস যখন কেড়ে নিয়ে বাণিজ্যিক লিজ দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের জীবন চরম সংকটে পড়ে। এই লিজের ফলে গ্রামের ৭০-৮০টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আজ হুমকির মুখে।
এই গ্রামে আদিবাসী পরিবারের বসবাস। গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য একমাত্র পানির উৎস হলো গ্রামের খাস পুকুরটি, যার পাশেই রয়েছে তাদের পবিত্র গীর্জা। দীর্ঘদিন ধরে এই পুকুরটি ভূমি অফিসের মাধ্যমে নিয়ম মেনে ব্যবহার করে আসছিলেন স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দারা।
পবা উপজেলার সমিতিকে দেওয়া এই লিজ বাতিল করে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ব্যবহারের জন্য পুকুরটি উন্মুক্ত রাখা হোক।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নাসির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ভূমি এবং উপজেলা প্রশাসন উপজেলা ভূমি অফিস, সমন্বিত উদ্যোগে এই সমস্যাটি একটি স্থায়ী ও মানবিক সমাধান করার চেষ্টা করছেন।
মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আর সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এক হয়ে কাজ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মোঃ হায়দার আলী
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী।