
আজিজুল ইসলাম যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের কন্দর্পপুর মানিকআলী গ্রামে চাঁদা না পেয়ে দফায় দফায় হামলা, মারপিট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার ও শনিবার রাতের এই তণ্ডব এবং ক্রমাগত হুমকিতে গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমনকি জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় অনেক ভুক্তভোগী পরিবার এলাকা ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কন্দর্পপুর গ্রামের মৃত নূর বক্স মন্ডলের ছেলে ইহান আলী (৪৮) ও তার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জিম্মি হয়ে আছে এই জনপদ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে ইহান আলী তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা সহকারে হঠাৎ মৃত ইসমাইল আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে তারা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। মিজানুর রহমান চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী এবং তার বিদেশ প্রবাসী ছেলের স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে।
একই রাতে ওই বাহিনী কৃষক আব্দুস ছাত্তারের বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরদিন সকালে রসুল মিয়া নামে অপর এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা না পেয়ে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে হারুন নামে এক ব্যক্তির স্ত্রীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা।
গ্রামবাসীর দাবি, ইহান আলী ও তার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সন্ধ্যার পর গ্রামের নারীরা নিরাপত্তার অভাবে ঘর থেকে বের হতে পারেন না। এমনকি প্রাকৃতিক প্রয়োজনেও তারা ঘরের বাইরে যাওয়ার সাহস পান না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও দীর্ঘদিনের চিহ্নিত এই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কীভাবে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এলাকা শাসন করলেও বর্তমানে তার এই "খুঁটির জোর" কোথায়, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা জানান, "ইহান আলীর বিরুদ্ধে আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।"
যশোর নাভারণ ‘ক’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান, "ইতিমধ্যে কন্দর্পপুর গ্রামের বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এই সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।