
মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাবু ।।
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার ।।
অভিযুক্ত আমানুল্লাহ আমান দৈনিক কালবেলা ও সংবাদ সারাবেলার পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন । কালবেলা পত্রিকার প্রতিনিধি হওয়ার পর থেকে পাল্টে গিয়ে বেপরোয়া হয় আমান। কালবেলার পরিচয়ে শুরু করেন সরকারি বরাদ্দ বাগিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন ঘটানোর একাধিক সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আমানুল্লাহ আমানকে লাঞ্ছিত করার পিছনে তাঁর এসব কর্মকাণ্ড বেরিয়ে আসে।
উপজেলার কর্মকর্তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতকে নিউজ মব সৃষ্টি করার ভয় দেখিয়ে উপজেলার বড়তারা গ্রামের একটি মাদ্রাসার নামে একয় অর্থ বছরে দুই দফায় যথাক্রমে ১ লাখ ১৬ হাজার ও ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিতে বাধ্য করেন আমানুল্লাহ। ওই বরাদ্দের পিআইসি আমানকে না করার কারনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওবায়দুর রহমানের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করারও অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করেন সংবাদ সারাবেলা পত্রিকায়।
স্থানীয় ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান এর কাছ থেকে ওই মাদ্রাসার কাজের অজুহাতে দুই হাজার ইট নেওয়ার ঘটনাও এলাকায় বেশ আলোচিত।
আওয়ামী শাসনামলে ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন আমানুল্লাহ। অভিযোগ আছে, এই সংগঠনের আড়ালে জেলা পরিষদ ও তৎকালীন রাজনৈতিক নেতাদের জিম্মি করে তিনি চাঁদাবাজি করতেন। ওই সময় ক্ষেতলাল থানার পরপর দুই ওসির সক্ষতায় রমরমা তদবির বানিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে আমানের বিরুদ্ধে।
এছাড়া তৎকালিন উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডলের পেটুয়া বাহিনী ও সাংবাদিক পরিচয়ে ভূমি কর্মকতাকে ভয় দেখিয়ে বড়তারা মৌজায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ইজারা মূল্যের একটি সরকারি পুকুর মাত্র ৩৩ হাজার টাকার ডিসিয়ার কেটে দুই বছর ভোগদখল করেন তিনি।
৫ আগস্টের পর ভূয়া ছাত্র প্রতিনিধি সেজে বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ ও আওয়ামী স্থানীয় নেতাকর্মীদের থেকে চাঁদাবাজী করেন। মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের উসকে দিয়ে মানব বন্ধনের ভয়দেখিয়ে তৎকালীন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর ওই পুকুর একয় কায়দায় ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করে আমান। কিন্তু সেখানে ব্যর্থ হলে দায়ী করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিককে। সে কারণে আবু বক্কর সিদ্দিককে রাজনৈতিক ভাবে হেয় করতে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পুকুর থেকে বালু উত্তোলনের মিথ্যা তথ্যে সংবাদ প্রচার করেন আমান।
সম্প্রীতি উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের সরকারি গাড়ি অফিসের কাজে বগুড়া শহর এলাকায় গেলে সাংবাদিক পরিচয়ে ওই গাড়ি হাইওয়েতে দাঁড় করিয়ে কর্মকতার সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয় এবং তা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে। এনিয়ে ওই কর্মকতার বিরুদ্ধে ক্ষেতলাল থানায় সাধারণ ডাইরি করে আমান। পরবর্তীতে ওই ডাইরি প্রত্যাহার করার জন্য প্রানী সম্পদ কর্মকতার নিকট থেকে মোটাংকের টাকা দাবি করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আমানুল্লাহ ও আব্দুর রাজ্জাকের ‘অপ-সাংবাদিকতার’ কারণে ক্ষেতলালে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী সহ গত ১৩ মাসে ক্ষেতলাল থানার ৯ জন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ২ জন ইউএনও এবং ২ জন এসিল্যান্ড সম্মান রক্ষার্থে বদলি নিয়ে ক্ষেতলাল থেকে চলে যাওয়র অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলে।
খুব অল্প সময়ে সাংবাদিকতায় এসে ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ইয়ামাহা মোটরসাইকেল এবং আইফোনের মতো দামি স্মার্টফোন ব্যবহার করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাঁর বাবার সাধারণ আর্থিক অবস্থার সঙ্গে আমানুল্লাহর এই বিলাসী জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
উপজেলার সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্ষেতলাল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের ভূয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সংবাদ প্রচার করে। পরতর্তীতে ওই সংবাদের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান সূত্রে জানা গেছে, নিউজ করার পূর্বে ওই প্রতিবেদক আমানুল্লাহ আমান প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে ২ লক্ষ টাকা দাবি করে, না দেওয়ায় সে মিথ্যা নিউজ করে।
মো দেলোয়ার হোসেন বাবু
জয়পুরহাট জেলা স্টাফ রিপোর্টার ।।