
তরিকুল ইসলাম তরুন, কুমিল্লা থেকে:
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু নগরবাসীর ভোগান্তি কমাতে একগুচ্ছ যুগোপযোগী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ঈদ-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক বাংলার সাংবাদিককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে প্রথমেই যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হচ্ছে যানজট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঈদের আগেও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে ঈদের পর পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে।
নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আগামী আজ ২৪ শে মার্চ ২০২৬ থেকে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষে খাল খনন বিষয়ে কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও খাল খননই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ইতোমধ্যে নগরের ছয়টি খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগরের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাস্তা সংস্কার, আলোকসজ্জা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ নগর গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পাবলিক টয়লেট স্থাপন এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিশোর গ্যাং ও মাদক নির্মূল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথমে সচেতনতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নগরের পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য ১০ জন নগর পরিকল্পনাবিদ নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে।
অতীত কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগেও তিনি নগরবাসীর সেবায় কাজ করেছেন এবং চানপুর খাল খননে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে ৪৪৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ যোগ করে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করেছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সে সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়েছেন।
মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে মানুষ মশারি ছাড়াই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“আগামী ছয় মাসের মধ্যে কুমিল্লা নগরের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই। তবে এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”