
আরিফ রববানী ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা রুকুনুজ্জামান সরকার রুকনকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এখন থেকে তিনি সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও নিয়মিত দায়িত্বপালন করতে পারবেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়
রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা সহায়তা প্রদান, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছে।
বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। একাধিকবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে।
রুকুনুজ্জামান সরকার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়লে ময়মনসিংহর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি বিএনপির সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল বলেন, রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ময়মনসিংহ নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, নাগরিক সেবা সহজ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা রাখি।
রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করছি। আমার ওপর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করব। ময়মনসিংহ নগরীর উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।
মহানগর বিএনপির একজন নেতা বলেন- রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন এর আগে বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৪ আসনের বিএনপির সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার হয়েও দলীয় মনোনয়ন তুমুল সম্ভাবনা ও বিবেচনার পরও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না হয়ে ত্যাগ উদারতা সহনশীলতায় রাজনীতির সৌন্দর্যে অবদান রেখেছে্ন। তিনি ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের ছাত্র থাকাবস্থায় কৈশোর বয়স হতে সুদীর্ঘ ৩৭ বছর যাবত অন্যায় অবিচার বিভিন্ন সময়ের স্বৈরশাসকদের অনায্য শাসনের বিরুদ্ধে বার বার রাজপথে ঝড় তুলেছেন,দলকে ভালোবেসে বেছে নিয়েছেন বিপদ সংকুল বন্ধুর পথ। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে ময়মনসিংহের রাজপথের একমাত্র অকুতোভয় নেতৃত্ব। হাজার বাধা বিপত্তি ও জীবনের মায়া তুচ্ছ করে আন্দোলন কে সবসময়ই তুঙ্গে রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুরো সময়টাতে মামলা জেল জুলুম হুলিয়া আর রোকন সরকার যেন সমার্থক শব্দ হয়ে ওঠা ময়মনসিংহের রাজনীতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলো। তিনি জেলার অসাধারণ একজন জনপ্রিয় কর্মীবান্ধব রাজনীতিক যার এক ডাকে হাজার হাজার, লক্ষ দলীয় নেতা কর্মী সাধারণ মানুষ ছুটে আসে তার নেতৃত্বে প্রাণপাত করতে কুন্ঠা বোধ করেনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তার এ অর্জন গৌরবের, বছরের পর বছরের ত্যাগ তিতিক্ষার ভালোবাসার অর্জন। সবসময়ের দলীয় নেতা কর্মীদের সুখে দুঃখের সারথি হওয়ার নিঃস্বার্থ প্রতিদান।
দল ও জনগণের প্রতি যার এমনি দায়বদ্ধতা, ভালোবাসার টান যেখানে নিজ পরিবার ও উপেক্ষিত। জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের পাশে থাকার অদম্য স্পৃহাই একজন কিশোরকে আজ এক তুমুল জনপ্রিয় জননেতা বানিয়েছে। তাদের মতে- প্রাপ্তির চাইতে যে নেতা ত্যাগকে প্রাধান্য দেন তিনি রোকন সরকার।
বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়-ময়মনসিংহ নগীরীর প্রতিটি ঘরে ঘরে যার নাম ভালোবাসার সাথে উচ্চারিত হয় তিনি রুকুনুজ্জামান সরকার রুকন । মানুষ যাকে মনে প্রাণে চায় তবুও তিনি দলীয় বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ দিয়েই মোহের বিরুদ্ধে , যাকে উনি মা বলে জানেন লৌহমানবী আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতোই আপোষহীন সাবেক ছাত্রনেতা রুকুনুজ্জামান সরকার।